সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার এএসআই হান্নানের বিরুদ্ধে অপরাধীচক্রের সাথে একাট্টা হয়ে সাধারণ মানুষের মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর এএসআই হান্নান পাটকেলঘাটা থানার ভয়ঙ্কর অপরাধী সিরাজসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে কুমিরা গ্রামের মৃত আনার নায়েবের ছেলে জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসে। সে সময় জুয়েল বাড়িতে না থাকায় জুয়েলের ছোটভাই হিরাকে হুমকি দিয়ে বলে আসে- ‘জুয়েল যেন তার সাথে যোগাযোগ করে। না হলে সীমানা পিলার মামলা দেয়া হবে।’
দু’দিন পর, গত ২৭ ডিসেম্বর পাটকেলঘাটা থানা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, দালাল ও প্রতারক (নাম সিরাজ) তার ০১৩০০০৪৩০৪১ নম্বর মোবাইল থেকে জুয়েলকে ফোন দিয়ে বলে, ‘আমি এসআই হান্নান বলছি। পাটকেলঘাটা থানার ওসির সাথে দেখা কর। না করলে বিপদ আছে।’ জুয়েল এ ব্যাপারে গত ৩০ ডিসেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও জানা গেছে, অপরাধীচক্রের সদস্য বহু অপকর্মের হোতা সিরাজকে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে মৃজাপুর ইসলামকাটী মোড়ে জনতা ধরে পুলিশকে খবর দিলেও পাটকেলঘাটা থানার ওসি অপরাধীকে ধরতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। সকাল আনুমানিক ৯টায় সিরাজের অবস্থান সম্পর্কে জানালে ওসি কোন গুরুত্ব দেয়নি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে। পরে এসপি সাতক্ষীরাকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায়। ততক্ষণে অপরাধী পালিয়ে যায়। প্রশ্ন- তাহলে কি ওসি লালন করছে এই ভয়ঙ্কর অপরাধীকে?
প্রশ্ন উঠেছে, এএসআই হান্নান জুয়েলের বাড়িতে কেন এবং কার নির্দেশে গিয়েছিল? তার সাথে আর কে কে গিয়েছিল? অপরাধী সিরাজ কেন গিয়েছিল? এএসআই হান্নান কি থানার সিসি নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে গিয়েছিল? জুয়েল কি কোন অপরাধী? না কোন মামলার আসামি?
এ ব্যাপারে পাটকেলঘাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ এ প্রতিনিধিকে বলেন, এএসআই হান্নানকে জুয়েলের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপারে কোন সিসি দেয়া হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
আরও প্রশ্ন- এই দালাল সিরাজ কেন জুয়েলকে রিং দিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বললো? সহসাই প্রশ্ন জাগে থানা পুলিশ কি তাহলে দালাল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে? এ প্রশ্ন বিজ্ঞমহলের।
জানা গেছে, এই সিরাজ ও জনৈক আরিফ পাটকেলঘাটা থানার এএসআই হান্নানের সহায়তায় এলাকার সাধারণ মানুষের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা আদায় করছে।
জানা গেছে, এই সিরাজের বাড়ি পাটকেলঘাটা থানার টিকারামপুর গ্রামে। বখশিয়া গ্রামের সিরাজ সরদারের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে মৃজাপুর এলাকায় বসবাস করে। এই সিরাজ একজন প্রতারক। সীমানা পিলারের নাম করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করা আর থানা পুলিশের সোর্স ও দালালি তার মূল পেশা। সম্প্রতি বরাত গ্রামের হানিফ সরদারের বৌকে ফুঁসলিয়ে ঢাকা নিয়ে আটকিয়ে রাখে। কয়েকমাস তার সাথে সংসার করে তাকেও তাড়িয়ে দেয়। এই সিরাজ এখন পাটকেলঘাটা ও তালা থানার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

