শুধুমাত্র ভয়ের কারণে মানুষ সাপ মেরে ফেলে। স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ কাজ করছে সাপ না মেরে তাকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিতে। শুধু সাপ নয়, যে কোনও বন্যপ্রাণী বিপদগ্রস্ত হলে সেগুলো উদ্ধার করে অবমুক্ত করে দেন প্রাকৃতিক পরিবেশে।

স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ এর সদস্য অপু আহমেদ। ছবিঃ দৈনিক পাঞ্জেরী
শুধু সাপ ধরা নয়, সাপে কাটা মানুষকে বাঁচাতেও তৎপর। ২০২০ সালে গড়ে উঠা ‘স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’। কীভাবে মানুষ এবং সাপের মধ্যে দ্বৈরথ নিরসন করা যায় তা নিয়ে ভাবতে গিয়েই কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলে করেন সংগঠন। গত তিন বছরে বিষাক্ত আর নির্বিষ মিলে প্রায় ৩হাজার সাপ উদ্ধার করে বনে মুক্ত করেছে সংগঠনটি।
বর্তমানে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা প্রায় ২৫০ , স্নেক রেসকিউয়ারের সংখ্যা ৫০ জন, বর্তমানে ৪০ টি জেলায় কাজ করছে সংগঠনটি, ইচ্ছা আছে ২০২৪ সালের মধ্যে সবকয়টি জেলায় কাজ করার।
সাপ নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে দেশে। এ কারণে বিভিন্ন সময় সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে নানা বাধায় পড়েন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ এর সদস্যরা, অনেক রকমের বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হন। কোথাও কোথাও সাপ উদ্ধারে যাওয়ার পর লোকজন জিজ্ঞেস করে ‘আপনাদের বীণ কোথায়? মানুষের ধারণা, বীণ বাজিয়ে সাপ ধরা হবে বুঝি। কি মন্ত্র পড়ে সাপ ধরেন? সাপ না আসার জন্য কিছু তাবিজ দিয়ে যান আমাদের। এধরনের বিভ্রান্ত থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ।

স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ এর নারী সদস্য বাপ্পি সুলতানা সোহানা। ছবিঃ দৈনিক পাঞ্জেরী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যুর অন্যতম কারণ সচেতনতার অভাব, সঠিক চিকিৎসার অভাব বা চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হওয়া।

