
নোয়াখালী প্রতিনিধি : জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। তার অপসারণ দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে দলিল লেখক সমিতি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
সোমবার বিকেল ৩টায় সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারনের দাবি করে সমিতির প্রায় ৪০ জন সদস্য হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন।
সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেন, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়া থেকে কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রায়ই তিনি দলিলদাতা-গ্রহীতা এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, আমমোক্তার নামা দলিলে প্রতি একরে এক হাজার টাকা, দানপত্র দলিলে পাঁচ হাজার টাকা, বন্দোবস্ত নথিতে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি নিয়মিত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও মাসে ৪-৫ দিনের বেশী অফিস করেন না। বিভিন্নভাবে তিনি দলিল লেখকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত টাকা হাতিয়া নেন। জেলা সদরের লোক হওয়ায় দলিল লেখকরা সদরের গেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়ে থাকেন সাব-রেজিস্ট্র্রার আবুল কালাম আজাদ।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় যোগদান করার পর থেকে আজ অবধি সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ এজলাসে বসে অফিস করেননি। অফিস করেন তার খাস কামরায়। সেখানে একজন করে দলিল লেখক ডাকেন তিনি। সেখানে বসে নামজারি খতিয়ানের অজুহাতে দলিল প্রতি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। নিরুপায় হয়ে দলিলদাতারা তার দাবিকৃত ঘুষের টাকা দিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। পরে সমিতির সদস্যরা জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন।
গতরাতে এ ব্যপারে জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখানে নতুন যোগদান করার কারণে পুরো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ জানান, ঘটনাটি মোবাইলে জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবুর রহমানকে জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাসনাত মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি তিনি পেয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে বেশ কয়েকবার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, আবুল কালাম আজাদের অপসারণ দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি পালন করেছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা।
উল্লেখ্য, তিনি ২০১২ সালের মে মাসে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। তার নিজ জেলা নোয়াখালী বলে জানা যায়।

