সিলেট প্রতিনিধি : চলমান হরতাল-অবরোধে বিভিন্ন যানবাহনে দেয়া আগুন ও পেট্রোলবোমার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে সিলেট নগরীতে প্রচারপত্র (প্রচারপত্র) বিলি করেছেন বিএনপি নেতারা। ২০ দলীয় জোটের নামে প্রকাশিত লিফলেটে যানবাহনে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলি, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে নগরীর দরগাগেইট ও চৌহাট্টা এলাকায় এরকম লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মিফতা সিদ্দিকী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউল করিম আলো, মুফতি নেহাল উদ্দিন, মহানগর বিএনপি নেতা মামুনুর রহমান মামুন, রুহুল কুদ্দুস চৌধুরী হামজা, ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ তায়েফ, জাকির আহমদ, ডাঃ সাকিলুর রহমান, মিজান আহমদ, আসাদ আহমদ, হোসেন খান ইমাদ, তৌহিদ হাসান, আজাদ আহমদ, সৈয়দ আলী ইরফান সাকিল, দুলাল আহমদ, হৃদয় দাস, মোস্তাক আহমদ, খোকন আহমদ, সাব্বির আহমদ, মাহিন আহমদ প্রমুখ।
প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০ দলীয় জোটের ডাকে সারাদেশে হরতাল-অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচিকে পুঁজি করে বর্তমান আওয়ামী সরকার তাদের এজেন্ট দিয়ে মার্কেটে ও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ চালিয়ে। এর মাধ্যমে তারা বিএনপিকে জঙ্গি দল হিসাবে আখ্যা দিয়ে দলটিকে নিঃশেষ করে দিতে চায়।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের গাড়িতেও আওয়ামী লীগ নাশকতা চালাতে পারে বলে প্রচারপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
পাঠকদের জন্য প্রচারপত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত সিলেটের ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, হর্কাসসহ সর্বস্থরের পেশাজীবী নাগরিকবৃন্দ
আসসালামু আলাইকুম / আদাব
২০ দলীয় জোটের আহ্বান
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষা আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসাবে অবরোধ ও হরতাল চলছে এবং সেই কর্মসূচিগুলো দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে অবরোধ ও হরতালকে পুঁজি করে বর্তমান অবৈধ খুনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার তাদের এজেন্ট বাহিনীদ্বারা নাশকতার অংশ হিসাবে মার্কেটে ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দেশবাসী ও আর্ন্তজাতিক মহলের কাছে বিএনপিকে জঙ্গী দল হিসাবে আখ্যা দিয়ে দলটিকে নিঃশেষের অপচেষ্টা লিপ্ত রয়েছে।
সুপ্রিয় সিলেটবাসী,
আপনাদের মার্কেট ও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করে দেশের মানুষকে হত্যা করছে আওয়ামী লীগ। তাই আপনারা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যে কোন সময় আপনাদের মার্কেটে অথবা দোকানে, পরিবহনে অগ্নি সংযোগ দিতে পারে আওয়ামী লীগ বাহিনী।
সম্মানিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিবাবকবৃন্দ,
আপনারা নিশ্চিয় অবগত আছেন দেশে একটি রাজনৈতিক মহাসংকট চলছে। সেই সংকটের সুযোগ নিয়ে যখন এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে যাবে শিক্ষার্থী বহনকারী যানবহনে আগুন দিয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করবে। কারণ অতীত ইতিহাস একটু অবলোকন করলে এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে রাজধানীর হোটেল শেরটনের সামনে বাসে গানপাউডার দিয়ে এক সঙ্গে ১১ জন লোককে হত্যা করেছিল। আরো অনেক নাশকতা উঠে আসবে অতীত ইতিহাস উপলব্ধি করলে। আওয়ামী লীগ নিজের দলের নেতা কর্মীদের হত্যা করে সেই হত্যাকান্ড নিয়ে আন্দোলন করে ক্ষমতা যেতে চেয়েছিল, সেই আন্দোলনেরই ঠিক পুনরাভিত্তি আওয়ামী লীগ। তাদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের মেরে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গী আখ্যায়িত করে নিঃশেষ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
১৯৯৬ সালের এসএসসি পরীক্ষাসহ বেশকয়েকটি পরীক্ষা তাদের অনৈতিক নাশকতামূলক আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রায় ৩ মাস পেছানো হয়েছিল। তাই আপনাদের সবার কাছে আকুল আবেদন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হয়ে ১৬ কোটি মানুষকে আগে এই নব স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে মুক্ত করুন। সর্বোপরি আপনাদেরকে বলতে চাই, কোন নাশকতার সাথে ২০ দলীয় জোট জড়িত নয়। আপনাদের কোন ক্ষতি সাধিত হলে অবৈধ সরকারকে সকল দায়ভার নিতে হবে।
প্রচারে- ২০ দলীয় জোট সিলেট জেলা ও মহানগর।

