
যশোর ও কুমিল্লা প্রতিনিধি : যশোরে র্যাবের সঙ্গে ও কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু ওরফে ভাইপো রাজু এবং কালা স্বপন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীতেও গুলিবিদ্ধ এক মাদরাসা ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ভোর রাতে কুমিল্লার সদর উপজেলার সোয়াগাজীর ভাটপাড়া এলাকায় ও যশোর মুড়লিমোড় এলাকায় পৃথক এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত কালা স্বপন (৩৭) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রামপুরের কালামিয়ার ছেলে ও ভাইপো রাজু যশোর শহরের গাড়িখানা সড়কের আজিবর রহমানের ছেলে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রশান্ত পাল জানান, পুলিশের হাতে আটক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা স্বপনকে নিয়ে শনিবার রাতে অস্ত্র উদ্ধারে বের হয় পুলিশ। স্বপনকে নিয়ে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ রাত ১টার দিকে উপজেলার সোয়াগাজীর ভাটপাড়া এলাকায় গেলে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্যকরে গুলি ছুড়ে। এসময় তাদের ছোড়া গুলিতে কালা স্বপন আহত হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েক রাউণ্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করে।
শনিবার রাত ১টা ৫৫মিনিটে সদর দক্ষিণ থানার এসআই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আহত স্বপনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় যুবলীগ নেতা মোস্তাক হত্যা ছাড়াও একাধিক হত্যা মামলাসহ ২৮টি মামলা রয়েছে।
অপর দিকে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আশরাফ উদ্দিন জানান, রাত ৯ টার দিকে শহরের গাড়িখানা এলাকা থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাজু ওরফে ভাইপো রাজুকে আটক করা হয়।
এরপর তার দেয়া তথ্যমতে রাত একটার দিকে তারা রাজুকে নিয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের মুড়লিমোড় এলাকার ইশমাম পেট্রোলপাম্পের পাশে অবস্থিত একটি ইটভাটার কাছে যান। এসময় রাজুর সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এ সময় রাজুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি রিভলবার, একটি পিস্তল, দুটি দেশি অস্ত্র ও কিছু মাদকদ্রব্য।
রাজুকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাজুর বিরুদ্ধে যশোরের সাবেক পিপি মরহুম এজেড এম ফিরোজের ছেলে অর্ণব, যুবলীগকর্মী সোহেল হত্যাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম জসিম উদ্দিন (২৩)। রোববার ভোরে তালতলা নতুন রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শেরে বাংলা নগর থানার এসআই এমএ রব জানান, রোববার ভোর রাতে তালতলা নতুন রাস্তা থেকে জসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে একাধিক গুলির ক্ষত রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জসিমকে শুক্রবার পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই আনিসুর রহমান। রোববার সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ছোট ভাইয়ের মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
এ হত্যাকাণ্ডটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে, নাকি সন্ত্রাসী চক্রের হাতে ঘটেছে জানতে শেরে বাংলা নগর থানায় যোগাযোগ করা হলে এসআই সুধাংশ বলেন, ‘সার্জেন্ট গোলাম মওলার ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে তালতলা থেকে বেশ কয়েক যুবককে ধরে আনা হয়েছিল। তবে তার মধ্যে জসিম ছিল কি না সেটা আমি নিশ্চিত না।’

