নিউজ ডেস্ক : গাইবান্ধা ও বরিশালে পেট্রোলবোমা হামলায় দুই শিশুসহ নয় জন নিহত হয়েছে। পৃথক এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে আরো ৩৯ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
গাইবান্ধা: ঢাকাগামী নাপু এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমায় দেয়া আগুনে চালক, হেলপার ও শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়েছে বাসের আরো ৩৯ যাত্রী।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জেলার তুলসীঘাট এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দগ্ধ যাত্রীদের প্রথমে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২০ জনকে রেফার করা হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক)।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার আশরাফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দগ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২০ জনকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাতে গাইবান্ধা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল নাপু এন্টারপ্রাইজের একটি বাস। রাত ১১টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের তুলসীঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা বাসটিতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে। এতে পুরো বাসটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক যাত্রী বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করে। তবে জানালা বা দরজা খোলার আগেই যাত্রীদের সবাই দগ্ধ হয়। এসময় চালক ও হেলপার এবং শিশুসহ চারজন পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও এক শিশু মারা যায়।
গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বাসের আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে বেশিভাগ যাত্রী ছিলেন খেটে খাওয়া দিনমজুর। ঢাকায় লেবারের কাজ করে তারা সংসার চালাতেন।
হাসপাতালের কথা হয় গাইবান্ধার উজান বুড়াইল গ্রামের আহত হযরত আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, ঘুমের মধ্যে তিনি হঠাৎ দেখতে পান বিকট শব্দে বাসটি জ্বলছে দিকবিদিক না ভেবে তিনি জানালা দিয়ে লাফানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ইতোমধ্যে তার শরীরে আগুন লেগে যায়।
ছিচা পাঁচপিরের মজিবর মিয়া জানান, তিনি দেখতে পান তার শরীরে আগুন জ্বলছে পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
গাইবান্ধা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু হানিফ জানান, গাইবান্ধা হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় গুরুতরদের রংপুরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত্যু ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে।
বরিশাল : বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমা হামলায় ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার ভোর রাতে উপজেলার বাটাজোর বাজারের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ট্রাকের চালক ফরিদপুর জেলার বদরপুর গ্রামের মো. ফাইজুল ইসলাম (৩০) ও হেলপার জেলার একই গ্রামের মোল্যা বাড়ি সড়কের বাসিন্দা মো. মুনু সিকদার (২৬)। অপরজন হলেন- লেবার চালকের শ্বশুর। তবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-১৫৯৩২৬) মুরগীর খাবার (পোল্ট্রি ফিড) নিয়ে মাদারীপুর থেকে বরিশাল যাচ্ছিল। পথিমধ্যে উপজেলার বাটাজোর বাজারের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ট্রাকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে।
ট্রাকে-আগুনএতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আগুন ধরে গেলে চালক, হেলপার ও একজন লেবার ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্যাহ জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

