পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাবা হবেন তিনি। তাও আবার একসঙ্গে দুই সন্তানের। একটি ছেলে ও একটি মেয়ের। তাই আনন্দটা একটু বেশিই। শুধু নিজেই নয়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়ো আউলিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন আর রশিদের পুরো পরিবারে আনন্দ।
দুটি সন্তান আসছে পৃথিবীতে। নিজেদের মতোই ভাবতে শুরু করে তারা। তবে তাদের সে ভাবনা আটকে গেছে সন্তান হওয়ার পরে। পুরো পরিবারের স্বপ্ন যেন ধোঁয়ায় মিলিয়ে যায়। ছেলে-মেয়ে নয়, সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হারুন আর রশিদের স্ত্রী লাইজু বেগম একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী দুই সন্তান হওয়ার কথা থাকলেও এক কন্যার জন্ম হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অপর সন্তান চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটারেই চিকিৎসদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন রোগীর স্বজনরা।
পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল সংলগ্ন পানামা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ডা. মিজানুর রহমান করেছিলেন রোগীর আলট্রাসনোগ্রাফ। গত ৩ জানুয়ারি ও ২৮ জানুয়ারি দুই দফায় করা আলট্রাসনোগ্রাফ রিপোর্টে তিনি করেছিলেন লাইজু বেগমের পেটে জমজ সন্তান রয়েছে।
রোগীর স্বজনরা একটি সন্তান পেয়ে ডা. মিজানুরের কাছে গেলে তিনি নিজেও ছুটে আসেন পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘রিপোর্টে ভুল হয়েছে। সন্তান একটিই ছিলো। রোগী একটু মোটা হওয়ায় এমটি হয়েছে।’
গত ৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে লাইজু বেগমের সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় এমন বিপত্তির ঘটনা ঘটে। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পরেন অপারেশন থিয়েটারে থাকা চিকিৎসকরা।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ভুল রিপোর্টের কারণে আমাদের প্রায়ই বিব্রত হতে হয়। কোনো কোনো রোগীর আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে হয়তো লেখা হয় ছেলে হবে। কিন্তু যখন মেয়ে হয়, তখন রোগীদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এ ছাড়া জমজ সন্তান হবে এমন রেপোর্টের ক্ষেত্রে একটি সন্তান হলে আরো বড়ো বিপত্তি ঘটে।’ স্পর্শকাতর বিষয়ে এসব রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকদের আরো যত্মবান হবারও অনুরোধ জানান তারা।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা শহরের অনেকে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। কোনো ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই পটুয়াখালী শহরের ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসবের সরকারি অনুমোদন তো দূরের কথা অধিকাংশেরই নেই প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। এর ফলে রোগীদের কাছ থেকে কারি কারি টাকা নিলেও রোগ নির্ণয় ও যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষায় অনেক সময়ই ভুল হয়ে থাকে। আর এসব ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন তেমনি চিকিৎসকদেরও বিব্রত হতে হচ্ছে।

