ঢাকাSunday , 12 September 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের নানামুখি পদক্ষেপ : বদলে গেছে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের চিত্র

Link Copied!

রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবা খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজড করতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে নতুন করে। এ কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে তেজগাঁওয়ে নবনির্মিত রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার নিয়োগেরও চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে আনসার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমপ্লেক্স থেকে দালাল ও বাটপারদের উচ্ছেদ অভিযানে নেওয়া হয়েছে বেশকিছু পরিকল্পনা। কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরের মূল প্রবেশ পথে যেতেই এখন থমকে দাঁড়াচ্ছে সবাই। মূল ভবনের গেটের দু’প্রান্তেই স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। জাতির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি উল্লেখিত এবং বাণী পড়ে সকলেই দেশপ্রেমে জাগ্রত হন। প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি নির্মাণসহ বেশকিছু কর্মপরিকল্পনার কথা জানান জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার। এক সময় জনবল সংকট ও প্রশাসনিক অক্ষতায় রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সটির ছিলো বেহাল দশা। অফিস চলাকালীন টাউট-বাটপার-দালালদের ছিলো দখলে। সন্ধ্যা নামতেই কমপ্লেক্সজুড়ে অবাঞ্চিত ব্যক্তিদের আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলো সবাই। শুধু তা-ই একাধিবার সেখানে ভলিউম বইসহ মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রহস্যজনক অগ্নিকা-ও সংঘটিত হয়েছে কয়েকবার। চুরি যাওয়া কিছু ভলিউম উদ্ধার হলেও এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা আজও চলছে। এরকম আলোচনা-সমালোচনা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই স্বাধীনতা পরবর্তী দ্বিতীয় নারী হিসেবে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পান সাবিকুন নাহার। তেজগাঁওস্থ রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরত বেশ কয়েকজন সাব রেজিস্ট্রার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবিকুন নাহার। একজন নারী হয়েও জেলা রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পেয়ে তিনি কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজানোর কঠিন ও সাহসী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। জেলা রেজিস্ট্রার তার অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সকল সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক, নকল নবিশ, উমেদার ও স্থায়ী কর্মচারিসহ উপস্থিত সকলের সামনে তিনি ১শ’ দিনের ক্রাশ প্রোগাম ঘোষণা করেন। সরকারি নিয়মানুসারে কর্মকর্তাসহ অধীনস্ত কর্মচারিদের তিনি সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত করতে সমর্থ হন। প্রথম তিন মাস তিনি নিজেই ৯টার মধ্যে অফিসে এসে সাব-রেজিস্ট্রারদের তার রুমে ডেকে নিয়ে চা চক্রের মাধ্যমে দিনের কাজের শুভ সূচনা করেন। একইসঙ্গে অফিসারদের সুবিধা-অসুবিধা জেনে নিতেন। সাবিকুন নাহার যোগদানের পরেই কমপ্লেক্সের ভেতরে কার পার্কিং অপসারণ করেন। এ কর্মকাণ্ডে অনেকে সেদিন নাখোশ হন। এরপর তিনি ভবনগুলোকে চিহ্নিত করে দেন (যেমন ভবন-১, ভবন-২)। ভবনের ভেতর-বাহির। নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মনোরম পরিবেশ তৈরিতে ফুলের গাছ লাগানো, দেয়ালের শোভা বৃদ্ধিসহ মসজিদের সংস্কার করেন। নিরাপত্তা কর্মীসহ ছোটপদের কর্মচারিদের জন্য নির্ধারিত লোগোসহ আলাদা রংয়ের পোশাক নির্দিষ্ট করে দেন। তার সবচেয়ে বড় সাফল্য অফিসের কাজের তালিকা। প্রণয়নসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। এ জন্য শুরু করেন সারপ্রাইজ ভিজিট। গণশুনানির আওতায় আনা হয় সকলকে। তারা আরও বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারের উদ্যোগে গেল জাতীয় শোক দিবসে কমপ্লেক্সে সংযোজন হয় বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ গ্যালারি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মচারিদের বদলি ও প্রমোশনের কাজটি করেন তিনি বোর্ড বসিয়ে। জেলা রেজিস্ট্রার বোর্ড বসিয়ে ফাইলপত্র যাছাই বাছাই করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে এ বদলি ও প্রমোশন প্রদানের ক্ষেত্রে পালন একটি নজির সৃষ্টি করেন। রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের এ পরিবর্তন প্রসঙ্গে জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, দায়িত্ববোধ থেকে এসব উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। মানুষ কর্মের মাঝে বেঁচে থাকে এ উপলব্ধিবোধ থেকে কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। কারণ আমিতো আর এখানে বেশিদিন এখানে থাকবো না। অবসরে যেতে হবে। সংশ্লিষ্টরা যাতে আমাকে মনে রাখেন সেজন্য আমার এ নিরলস প্রচেষ্টা। জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার আরও বলেন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য আনসার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে শীঘ্রই কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। জমি সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সেবা গ্রহিতাদের জন্য আমার অফিসের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। এখনও রাত ৮-৯টা পর্যন্ত অফিস করি। কোন কাজ আগামী দিনের জন্য রেখে দেইনি। এটিই আমার কাজের ধরন। ভবনের তিন ও চার তলার রেকর্ড রুমের সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে দলিল লেখকদের বসার জন্যও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই এসব বিষয়েরও সমাধান হবে।