নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুনাম কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারির কারণে প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার প্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে বারবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা কখনো কর্ণপাত করেন না। অথচ দুর্নীতিবাজদের দায় সরকারকেই বহন করতে হয়। উন্নয়নশীল বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বর্তমানে কয়েক লাখ। সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণ। দু’মুঠো ভাতের জন্য প্রাণান্তর লড়াই যেন থামছে না। আর এ সুযোগ হাতিয়ে নিচ্ছেন কতিপয় চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা। সামান্য বেতনের চাকরির আশায় লাখ লাখ টাকার ঘুষ গুনতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে আমাদের এবারের প্রতিবেদন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলকেএসএস’র (এলজিইডি কল্যাণ সমবায় সমিতি) বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এইচআরসি অন্যতম। এইচআরসি হচ্ছে হিউম্যান রিসোর্স কোম্পানী। এর ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির। যার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সূত্র জানায়, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নানা ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েকশ’ কার্যসহকারী (ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এখনও দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদকালীন পর্যন্ত এরা চাকরির সুযোগ পাবেন। কিন্তু কাজের মান সন্তোষজনক না হলে এরা চাকরিও হারাতে পারেন। আবার এদের কাজের মান সন্তোষজনক হলে এক বছর পর পর নবায়ন করতে হবে। বেতন মাত্র ১৪ হাজার টাকা। অভিযোগ আছে, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে একটি চক্র চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই চক্রের সঙ্গে এইচআরসি’র ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, নানা অজুহাতে হুমায়ুন কবিরকে মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়। কার্যসহকারী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (আইসিটি এন্ড প্রকিউরমেন্ট) সভাপতি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মনিটরিং) সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালকের নেতৃত্বে এই কমিটি। চাকরিপ্রত্যাশীদের পরীক্ষার ফলাফল এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগপত্র প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এইচআরসি’র ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরকে। তখনই নানা টালবাহানায় মোটা অংকের অর্থ তিনি হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। সূত্র জানায়, অনৈতিক সুবিধার আশায় মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে কার্যসহকারী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বেকার শিক্ষিত যুবকরা এ পথে পা বাড়িয়েছেন। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারি, প্রকল্প পরিচালক এবং এইচআরসি’র ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির। অভিযোগ রয়েছে, এই দুর্নীতিবাজ লুটেরা চাকরিপ্রত্যাশীদের বিপথগামী করে তুলছেন। তারা বলছেন, বেতন সামান্য হলেও কাজের সময় নানা সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমানের যোগসাজশে এইচআরসি’র ব্যবস্থাপক চাকরিপ্রত্যাশীদের ভবিষ্যৎ সুযোগ সুবিধার ‘রঙিন স্বপ্ন’ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এইচআরসি’র ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং উত্তেজিত কণ্ঠে কথা বলেন। এ ছাড়া সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমানের বক্তব্যের জন্য অসংখ্যবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

