নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার : ঢাকার আশুলিয়ায় একটি খাস পুকুর ভরাট করে দোকান পাট নির্মাণ করে সরকারি ১৫ কোটি টাকার জমি আত্মসাতের চেষ্টা। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসকে অবহিত করলে জবর দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আশুলিয়ার টেঙ্গুরী এলাকার চিড়িঙ্গা পুকুরের এক একর ৭২ শতাংশ জমি ভরাট করে আধাপাকা ঘর করে দোকান পাট ও ভাড়া ঘর নির্মাণ করেছে আব্দুস সালাম মুন্সি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, জিরানী এলাকার টেঙ্গুরী মৌজার চিড়িঙ্গা পুকুরের ১ একর ৭২ শতাংশ জমির এসএ, আরএস ও বিআরএস রেকর্ডে খাস খতিয়ানভুক্ত। এলাকার একমাত্র পুকুর চিড়িঙ্গা। বহু বছর ধরে এ এলাকার লোকজন ওই পুকুরে গোসল করতেন, মাছ ধরতেন ও লোকজন বিনোদনের জন্য ওই পুকুরের পাড়ে আসতো। বর্তমানে ওই পুকুরটি স্থানীয় বিএনপি নেতা ভূমিদস্যু আব্দুস সালাম, আবুল কালাম আজাদ ও আজিজুল আওয়মী লীগের সাথে ঘোরাঘুরি করে প্রভাব খাটিয়ে পুকুরটির অনেকাংশ ভরাট করে ফেলেছেন। তৈরি করেছেন এ জায়গায় দোকানপাট ও কলোনী। নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি এ পুকুরটির সিএস ও এসএ ৪৮, আরএস-৬৫। এ সরকারি পুকুরটি রক্ষার জন্য আব্দুস সালাম গংদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা লিখিতভাবে সহকারি কমিশনার ভূমি (আশুলিয়া সার্কেল) বরাবরে অভিযোগ করেছেন। আশুলিয়া সার্কেলের এসিল্যান্ড তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ সরকারি ওই সম্পত্তিতে সাইনবোর্ড সাটিয়ে দিয়ে তাদেরকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে তাগিদ দিয়েছেন। এসিল্যান্ড পরিবর্তন হওয়ার পর তারা সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে পুনরায় সরকারি জমিতে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। অভিযুক্ত সালামকে মোবাইল করলে তিনি জানান, চিড়িঙ্গা পুকুরে এসিল্যান্ড সাইনবোর্ড দিয়ে থাকলে কোথায় দিয়েছে তা তাকে জিজ্ঞেস করেন। তিনি সাইনবোর্ড, জমি ও এসিল্যান্ডের ব্যাপারে কিছুই বলবেন না।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন খান জানান, বিষয়টি তাদের জানা আছে। এ জমিতে প্রশাসন সাইনবোর্ড দিয়েছে। যাতে সরকারি জমিতে নতুন করে কোন স্থাপনা তৈরি না হয়। লকডাউনের সুযোগে স্থানিয় ভূমিদস্যু আব্দুস সালাম সে সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে দোকান পাট নির্মাণ করতে পারে। তবে যদি সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে তা সরকার উচ্ছেদ করবে।
এ ব্যাপারে সহকারি কমশিনার ভূমি (আশুলিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি আশুলিয়ায় নতুন যোগদান করেছেন। সরকারি পুকুরের জমি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করার খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে অবগত হয়েছেন বলে জানান তিনি। লকডাউন শেষ হলে যে কোন দিন ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তা ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সালাম, তার ভাই আবুল কালাম আজাদ ও আজিজুল হক এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সাথে জড়িত। তাদের ভয়ে এলাকায় কেই মুখ খুলতে সাহস পান না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিলু দাসের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে তাদের সম্পদ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আব্দুস সালাম গংদের বিরুদ্ধে।

