ঢাকাSunday , 18 July 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট মালিক
মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম : চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেওয়ার অভিযোগ

Link Copied!

আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেন।

প্রথম পর্ব

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, খামখেয়ালিপনা ও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, বিলাসবহুল একটি নান্দনিক পরিবেশে তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ডেকোরেশনে হার মানিয়েছে ইসলামী ব্যাংককেও। ভিতরে প্রবেশ করে কেউ বুঝতে পারবেন না এটা এজেন্ট ব্যাংক, না মূল ইসলামী ব্যাংক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ই-ব্যাংকের এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেন ইসলামী ব্যাংকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ডিলারদের কাছ থেকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিয়ে শত কোটির মালিক হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আকিজ গ্রুপের আশুলিয়া এলাকার ডিলার সুলতান জানান, ই-ব্যাংকে আর্থিক লেনদেনের একপর্যায়ে এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। এ সময় তিনি তাকে ই-ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি তার কাছ থেকে একটি ব্লাঙ্ক চেকও নেন। এরপর থেকে তার এজেন্ট ব্যাংক থেকে একদিনের জন্য ১ লাখ টাকা নিলে ৫শ’ টাকা সুদ দিতে হত। যদি ওই টাকা ৫ দিনে পরিশোধ করা না হয়, তাহলে তাকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা সুদ দিতে হয়। করোনাকালীন সময় তার মালামাল বিক্রি না হওয়ায় ধুরন্ধর মোবারক হোসেন তার কাছে ২ লাখ টাকা সুদ ধরে ৮ লাখ টাকা আসল ঘোষণা করেন। পরে তিনি ঐ অর্থকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধরে ১৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় মামলার ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে সোনালী ব্যাংকের একটি ব্লাঙ্ক চেক এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি ব্লাঙ্ক চেক রেখে দেন। একপর্যায়ে সুদের টাকার জন্য তার (সুলতানের) ডিলারশীপ চলে যায়। ব্যবসা হারিয়ে পথে বসেন তিনি।
এ ব্যাপারে ই-ব্যাংকের এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেন জানান, সুলতানের সঙ্গে তার লেনদেন ব্যক্তিগত; ব্যাংকের নয়। ই-ব্যাংকের সীল ও ব্যাংক ব্যবহার করে এ রকম সুদের ব্যবসা চালাতে পারেন কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা ব্যাংকের বাইরের লেনদেন।
পরে সুলতানের স্ত্রীর কাছ থেকে ব্লাংক চেক নেওয়া ৯ লাখ টাকার চেক ফেরত দিয়েছেন মোবারক হোসেন। এ সময় সুলতানের কাছ থেকে একটি স্টাম্পে স্বাক্ষরও রেখে দেন তিনি।
এ ব্যাপারে সাভার ই-ব্যাংকের এভিপি এন্ড ম্যানেজার অপারেশন সাইদুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ই-ব্যাংকে সুদ নেওয়া হয় না। যদি এজেন্ট ব্যাংক মালিকগণ ব্যাংকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সুদের ব্যবসা করে তা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ই-ব্যাংকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এ ধরনের সুদের ব্যবসা করতে পারবে কি না? এর উত্তরে তিনি জানান, ব্যাংকের মধ্যে এ রকম কোন কাজ করতে পারবে না। অন্য কোন অফিসে করলে সেটা তার ব্যাপার। আশুলিয়ায় এজেন্ট ব্যাংকের মালিক মোবারক হোসেনের ৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং রয়েছে। এ ব্যাংকগুলোতে ৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা জামানত নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়োগপত্র দিয়ে কয়েকদিন পরে জামানত না দিয়েই তাদেরকে জোরপূর্বক মামলার ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে ভেন্ডাবরের হুমায়ুন কবির জানান, এজেন্ট ব্যাংকের মালিক মোবারক হোসেন তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা জামানত নিয়ে ডেন্ডাবর ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চাকরি দেন। ইসলামী ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে সুদের ব্যবসা করায় এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেনের সঙ্গে একপর্যায়ে তার কথার কাটাকাটি হয়। এতে মোবারক হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ব্যাংক থেকে বের করে দেয়ার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান। এ ব্যাপারে হুমায়ুন কবির আশুলিয়া থানায় ব্যাংক এজেন্ট মালিক মোবারকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোবারক হোসেন তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা জামানত নিয়ে ম্যানেজার অপারেশন পদে নিয়োগ দেন। এ সময় তার সাথে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি হয় এবং হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা বলে। চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তাকে জামানতের টাকা ফেরত না দিয়ে ব্যাংক থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান তিনি এবং ব্যাংক থেকে বের করে দেয়ার জন্য হুমকি ধমকি দেন বহুবার।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোবারক হোসেনের ৪টি ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। আশুলিয়া এলাকার ডেন্ডাবর, পলাশবাড়ি, ইউনিক ও গাজিরচটসহ চারটি ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট রয়েছে। এ এজেন্টগুলোতে তার মহাজনি ব্যবসা চলছে ধুমছে।
এ ব্যাপারে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক মোবারক হোসেনের কাছে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেওয়ার ডকুমেন্ট দেখিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম টাকা দিলে তো ভালই হতো, কিন্তু আমি তার কাছে অনেক টাকা পাই যা তিনি দেন না। লেনদেনের রশিদ ও ক্যাশিয়ারের সইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তার ডেন্ডাবরের ই-ব্যাংকের সীল দেখালে তিনি ব্যক্তিগত লেনদেনের কথা স্বীকার করেন।
সালমা নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ৩ লাখ টাকা জামানত নিয়ে মোবারকের ব্যাংকে চাকরি নেন তিনি। তার মেয়ে ফারিহার ক্যান্সার হলে চাকরিতে গরহাজির থাকেন এবং ফারিহার চিকিৎসার জন্য মোবারক হোসেনের কাছে জামানতের টাকা ফেরত চান। ফারিহার চিকিৎসার জন্য জামানতের কোনো টাকা ফেরত দেননি মোবারক হোসেন।
মৎস্য ব্যবসায়ী খোকন জানান, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট মালিক মোবারক হোসেনের ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সুদ দিতে দিতেই শেষ।
মেরিকোর ডিলার ওসমান গনি জানান, মোবারকের ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তার ডিলারের ব্যবসা একেবারে শেষের পথে। ব্যবসার শুরুতে মোবারক হোসেন তার কাছ থেকে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক রেখে দিয়েছেন। সুদ না দিলে ওই চেকের ভয় দেখাতেন তিনি। ফান্দে পড়ে তার সাথে ব্যবসা করতে হয়। এভাবে কোন ব্যবসায়ী যেন ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা গিয়ে ফান্দে না পড়ে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে মোবারক হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।