দৌলতখান( ভোলা) প্রতিনিধি : ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ মো. ওলিউল্লাহ আশ্রয়হীন অসহায় সস্ত্রীক ঘুরে বেড়ান এ বাড়িতে থেকে ওই বাড়ি এই এলাকা থেকে ওই এলাকা। স্ত্রীকে নিয়ে থাকার মতো জমি বা ভিটা কোনোটাই নেই। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পনেরো বছর পূর্বে দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সর্দার বাড়িতে থাকা ওলিউল্লার ভিটেমাটি মেঘনার অতলে হারিয়ে যায়। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় ওলিউল্লাহ পরিবার। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীসহ পাড়ি জমান অচেনা শহর রাজধানী ঢাকায়। দিনমজুরির কাজ করে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করতেন। মেয়েরা বড় হলে ধারদেনা করে দুই মেয়ে তানিয়া বেগম (২৫) ও রুনা বেগম (২২)কে বিয়ে দেন।
বয়স বৃদ্ধি পাওয়া এখন আর কাজ করতে পারে না। দীর্ঘদিন অসুস্থ বুকে ব্যথা টাকার অভাবে যেখানে দুবেলা দুমুঠো খেতে পারে না সেখানে ডাক্তার আর পরিক্ষার টাকা কিভাবে জোগাড় করবে?
একমাত্র ছেলে নয়ন (২০) শহরে থেকে কাজ করে কিছু টাকা পাঠালে তা দিয়ে বাবা-মায়ের তিনবেলা খাবার খাওয়া অসাধ্য ছিল। করোনার ভয়াল থাবা এখন কর্মহীন ছেলে। সে এখন অসুস্থ।
ওলিউল্লাহ বর্তমানে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারউল্লাহ ৬নং ওয়ার্ডের সুবেদারমোড় সংলগ্ন ধনকাজি বাড়ির মো. জাহাঙ্গীর এর একটি পরিত্যক্ত ঘরে থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, ওলিউল্লাহ কোনো কাজ করতে পারে না। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। সরকার যদি তাঁর জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেয় অন্তত ভিক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা মো. মিঠু জানান, ওলিউল্লাহ খুব অসহায়। ভিক্ষা করে দুমুঠো খায়। কিন্তু থাকার মতো নিজস্ব বাসস্থান নেই।
অপর স্থানীয় ব্যক্তি মো. সঞ্জীব জানান,বৃত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি আকুল আবেদন তারা যেন বৃদ্ধ জামালের পাশে দাঁড়ান।
বৃদ্ধ ওলিউল্লাহ জানান, কাজ করতে পারি না ভিক্ষা করে খাই। কিন্তু থাকার মতো নিজের ঘর নেই। অন্যের ঘরে থাকি ।আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রী একটি ঘর দিত তার জন্য দোয়া করতাম।

