
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে চলমান জিওটিউব স্থাপন কার্যক্রমের চিত্র। সম্প্রতি তোলা ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান। প্রাকৃতিক সৈকত। একমাত্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত হতে একই সাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। বিগত এক দশক ধরে কুয়াকাটার সৈকতের প্রশস্ততা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় এর সৌন্দর্য দিন দিন কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী বিগত ৫ বছরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের শোরলাইন প্রতি বছর গড়ে ১০০ মিটার দেশ কূলের/দেশ ভাগের দিকে সরে আসছে। সমুদ্র সৈকত সংকুচিত হতে হতে এর গড় প্রস্থতা ৬০ মিটার এর নিচে চলে আসে। ফলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দিন দিন কমতে থাকে। বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত যেমন- সিডর, আইলা, বুলবুল এবং আম্পানের আঘাতে সৈকতের ব্যাপক ক্ষয় হয়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অব্যাহত ভাঙন রোধে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগ, বাপাউবো, কলাপাড়া এর আওতায় বর্তমান ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ‘সতর্কতামূলক সৈকত প্রতিরক্ষা কাজ’ হাতে নেয়া হয়। এই প্রতিরক্ষা কাজের আওতায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের মেইন পয়েন্ট/জিরো পয়েন্ট হতে ঝাউবনের দিকে ১০০০ মিটার এবং জিরো পয়েন্ট হতে পশ্চিম দিকে ৫০০ মিটার জিওটিউব বসানো হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি শেষে আরম্ভ হওয়া এই কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। এই কাজের আওতায় ঝাউবনের দিকে ১০০০ মিটার দৈর্ঘ্যে (Non Woven) নন-উবেন জিওটিউব বসানো হয় এবং জিরো পয়েন্ট হতে পশ্চিম দিকে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যে (Woven) উবেন জিওটিউব বসানো হয়।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগ, কলাপাড়া হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২০ কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট বরাবর এর প্রশস্ততা পাওয়া যায় ৫৬ মিটার এবং সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ঝাউবনের নিকট পাওয়া যায় ১১৫ মিটার এবং কুয়াকাটার ডিসি পার্ক এর নিকট পাওয়া যায় ৬৭ মিটার। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অব্যাহত ভাঙন রোধ করে এর সংকোচন বন্ধ করাসহ সমুদ্র সৈকত প্রতিরক্ষা কল্পে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৩৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রতিরক্ষা কাজ হওয়ায় কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে বর্তমানে প্রশস্ত ১২০ মিটার যা পূর্বের চেয়ে ৬৪ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়াকাটায় অবস্থিত ডিসি পার্কের নিকট বর্তমানে সৈকতের প্রশস্ততা ১৫০ মিটার, যেখানে পূর্বের চেয়ে ৮৩ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝাউবনের নিকট প্রস্থতা ১৮৪ মিটার, যেখানে পূর্বের চেয়ে ৬৯ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়াকাটায় চলমান কাজের শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, কুয়াকাটার সৈকতের প্রশস্ততা স্থান ভেদে ৬০-৮৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া জিওটিউব সৈকতের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ইয়াসের ভয়াবহ তাণ্ডব হতে কুয়াকাটা সৈকত এলাকাকে রক্ষা করেছে। মাঠ দপ্তর হতে বলা হয়, চলমান কাজের মূল কাঠামের জিওটিউব বসানোর ফলে সেডিমেন্টেশন (পলিতকরণ) প্রক্রিয়ায় সৈকতের প্রশস্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঠ দপ্তর হতে আরও জানানো হয়, স্থানীয় কুচক্রী মহল দ্বারা জিওটিউবের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না হলে সেডিমেন্টেশন (পলিতকরণ) প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং সৈকতের প্রশস্ততা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। জিওটিউব স্থাপনের ফলে সৈকতের অব্যাহত ক্ষয় বন্ধ হয়েছে বলে স্থানীয় জনগণ অভিমত দেন এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য স্থানীয় জনগণ জোর দাবি জানান। কুয়াকাটায় উল্লেখযোগ্য হারে প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি এসেছে।

