দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি : দৌলতখান উপজেলার ছোট-বড় অনেক খামারে গরুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও চরাঞ্চলে গত কয়েক দিনে শতাধিক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা এসব খামারিরা। যে বাড়ি বা খামারে এ রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে সে বাড়ি বা খামারে পর্যায়ক্রমে সব গরু আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের।
সরেজমিন উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের মা-বাবা ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরু গুলো ঝিমাচ্ছে আর মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। খামার থেকে আক্রান্ত গরু আলাদা করে রাখা হয়েছে।
এসময় মা-বাবা ডেইরি ফার্ম-এর মালিক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন লিটন বলেন, দুগ্ধ ও মাংসের ব্যবসায়িক উৎপাদনের লক্ষ্যে শতাধিক গরুর ফার্ম করেছেন। গত এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে একটি গরু জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরদিন ক্ষুরা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। মুখের ভিতরে ঘা হয়ে মুখ থেকে ফেনাযুক্ত লালা ঝরতে থাকে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পায়ের খুরার মাঝেও ঘা দেখা দেয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে আরও ৩৯টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে গরু গুলো গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছি।
ইয়াসিন লিটন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা জুড়ে অনেক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের চিকিৎসা সেবা দৃশ্যমান নয়।
উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক খোকন জানান, গত কয়েকদিনে তার তিনটি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মধ্য মেঘনার চর মদনপুর ইউপির সদস্য ফারুক দৌলত জানান, ওই চরে শতাধিক গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। এখন সেগুলোর অধিকাংশই সুস্থ হয়ে উঠেছে।
পৌরশহরের গ্রাম্য চিকিৎসক গজনবী জানান, এক স্থানে ক্ষুরা রোগ দেখা দিলে সব এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। গ্রাম্য চিকিৎসকদের মাধ্যমে একটি গরুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে কৃষক বা খামারিকে অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। একে বারে শুরুতেই চিকিৎসা দিতে পারলে কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হচ্ছে। আবার অনেক গরুর সুস্থ হতে বেশ সময় লাগছে।
দৌলতখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: পার্থ সরাথি দত্ত বলেন, উপজেলায় কেবল মাত্র লিটন চেয়ারম্যানের খামারেই চল্লিশটি গরু আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত গরুর আমরা নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছি। ভারতীয় গরু গুলো প্রায়ই অসুস্থ হতে দেখা যাচ্ছে।
মূলত ভারতীয় গরু থেকে ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে থাকতে পারে। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আক্রান্তের হার খুব বেশি নয়। ওষুধের কোনো সংকট নেই। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসাসেবাও দেয়া হচ্ছে ঠিকমতো বলে এ কর্মকর্তা জানান।

