ঢাকাMonday , 5 July 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসহায় গাড়ি চালকদের আকুতি থামছে না
লকডাউনের মধ্যেও ঢাকা ইপিজেড থেকে লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

Link Copied!

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় ঢাকা ইপিজেডের মধ্যেও চাঁদাবাজি চলছে দেদারছে। লকডাউনের মধ্যেও ঢাকা ইপিজেডের মধ্য থেকে প্রতিমাসে লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে নিরব ভূমিকা পালন করছে।
চাঁদাবাজরা হলো- মো. রেজাউল করিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুস সালাম, মো. মকবুল হোসেন, মো. মাসুদ, মো. সুজন মিয়া, মো. বাবুল হোসেন, সানোয়ার হোসেন ও লেংড়া শফিসহ ১০/১২ জনের একটি দল।
সোমবার ঢাকা ইপিজেডে নতুন জোনে গেলে কাভার্ডভ্যান চালকরা জানায়, ঢাকা ইপিজেডে মালামাল নিয়ে আসলে অথবা মালামাল নিতে আসলে গাড়ি ইপিজেড অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তাদের কাছে শুধু মাত্র খাবারের টাকা ছাড়া অন্য কোন বাড়তি টাকা থাকে না। এর মধ্যেই চাঁদাবাজরা বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা নেয়। কোন কাভার্ডভ্যান প্রবেশ করা মাত্রই চাঁদাবাজরা এসে উপস্থিত হয়।চাঁদা না দিলে গাড়ি আটকিয়ে দেয় তারা। এভাবে গাড়ি চালকদের জিম্মি করে ৩০ টাকা করে প্রতি গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করে তারা। ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মী ও আনসারদের সামনে চাঁদার জন্য তাদেরকে গালিগালাজ করলেও তারা কোন প্রতিবাদ করেনা বলে গাড়ি চালকরা জানান। প্রতিদিন দু’টি ইপিজেড থেকে প্রায় ৩শ’টি গাড়ির চাঁদা আদায় করে থাকে। এতে প্রতিদিন ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে এ চক্রটি।
সোমবার সকালে সরেজমিনে নতুন ইপিজেডের প্রথম গেটে চাঁদাবাজ রেজাউল ও তার লোকদেও চাঁদাবাজি করতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এসে উপস্থিত হয় ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মী হেলাল, আনসার সদস্য ও গোয়েন্দা কমান্ডার হাবিবুর রহমানসহ ৫/৬ নিরাপত্তাকর্মী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কোন সহযোগিতা না করে তাদের সাথে অসৌজন্য আচারন করেন। তাদের বক্তব্য আপনারা হাইওয়ের চাঁদাবাজি বন্ধ করেন। তারা চাঁদাবাজির ব্যাপারে কিছুই জানেন না। অথচ তাদের গেটের একশ গজের মধ্যেই রয়েছে এ চাঁদাবাজদেও আস্তানা। সেখানে তারা কোন খোঁজখবর নেন না।
এ ব্যাপারে নুতন ইপিজেডের মালামাল নিয়ে আসা কাভার্ডভ্যান চালক সুজন জানান, ইপিজেডের মধ্যে সাধারণ লোকদের প্রবেশ নিষেধ। তাই গাড়ি ছিনতাই ও চুরি হওয়ার ভয়ে ইপিজেডের মধ্যে রাখা হয়। সেখানেও চলে চাঁদাবাজি। ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মীদের কর্মকর্তা, আনসার পিসি ও পুলিশের সামনে এসব চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজরা। চাঁদা তোলার কৌশল হিসেবে তারা চাঁদার রশিদও দিয়ে থাকেন। এ রশিদে ঢাকা তেঁজগাও এর ঠিকানা দেয়া। অথচ এরা চাঁদা তোলে ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে ও আশপাশে অপেক্ষমান গাড়িগুলো থেকে। ঢাকা ইপিজেড হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাই যেখানে কোন প্রকার ত্রাস ও ঝামেলা করা চলে না। ইপিজেডের মধ্যে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। অথচ এসব চাঁদাবাজদের কোন পরিচয়পত্র লাগে না।
লকডাউনের মধ্যে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে চাঁদা আদায়কারী রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, লকডাউনের আওতায় কার্গো ও কাভার্ডভ্যান নাই। তাই তারা লাইনের নেতাদের নির্দেশে চাঁদা আদায় অব্যাহত রেখেছেন। সেআরো জানান, প্রতিগাড়ি থেকে তারা ৩০ টাকা চাঁদা তোলেন। এর মধ্যে যারা আদায় করেন তাদেরকে ১০ টাকা করে দিয়ে বাকি টাকা প্রশাসন ও নেতাদের মধ্যে ভাগ হয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা ইপিজেডের নিরাপত্তা গোয়েন্দা কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, হাইওয়েসহ সব জায়গায় চাঁদাবাজি চলে সেটা আপনারা দেখেন না। ইপিজেডের চাঁদাবাজি দেখা তার দায়িত্ব নয়। এসবের দায়িত্ব পুলিশ ও র‌্যাবের। গোয়েন্দা কমান্ডার সাংবাদিকদেও ভয় দেখিয়ে বলেন, এখন আপনারা এখানে এসেছেন। আমরা যদি বলি আপনারা আমাদের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছেন। চলেন আপনাদেরকে জিএম সাহেব ডেকেছেন।
বেপজার জিএম আব্দুস সোবাহান জানান, ইপিজেডের মধ্যে চাঁদাবাজির ব্যাপারে তার জানা নাই। যদি কেউ চাঁদা আদায় করে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।