ঢাকার উত্তরখান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উত্তরখান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়েছে এ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে বুধবার মামলাটি রেকর্ড করেন উত্তরখান থানার ওসি আব্দুল মজিদ। কামাল উদ্দিন ছাড়াও আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- কামাল উদ্দিনের সহযোগী গুরুদাস মন্ডল, হরিদাস মন্ডল, ওয়াহিদুজ্জামান কালাম ও শিল্পী আক্তার।
উত্তরখান থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ৭৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এর তদন্তভার দেয়া হয়েছে এসআই মাঈন উদ্দিনকে।
মামলার এজাহারে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, কামাল উদ্দিন আমার পূর্ব পরিচিত। আমরা একই এলাকায় থাকি। একই মসজিদে নামাজ পড়তাম। এই সুবাধে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। তিনি আমাকে জমি কেনার জন্য উৎসাহ দেন। জানান, তার কাছে ৪৭ শতাংশ জমি আছে। তার কথা আমি সেখান থেকে ১২ কাঠা জমি কিনতে রাজি হলে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। বায়না দলিলের মাধ্যমে আমি কামালের কাছে ২০১১-২০১২ সালে এক কোটি ১২ লাখ টাকা দিই। বাকি টাকা সাব কাবলা দলিলের সময় দেয়ার কথা। তাকে বারবার সাব কবলা দলিল করে দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি টালবাহানা শুরু করে। আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিলে তিনি সাব কবলা দলিল করে দেয়ার জন্য রাজি হন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট জমি রেজিস্ট্রি করার দিন ধার্য হয়। সেদিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পর সে জানায়, ওই জমির মালিক তিনি না। জমির প্রকৃত মালিক গুরুদাস মন্ডল ও হরিদাস মন্ডল। তারা তাকে (কামাল) পুরো জমি আম-মোক্তারনামা করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৫ শতাংশ জমি আম-মোক্তারনামা করে দিয়েছে। তাই সে আমাকে ৫ শতাংশের বেশি জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারবে না। পরে বাধ্য হয়ে ৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করি। এর দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাকি সাত শতাংশ জমি পরে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি। তাই টাকা ফেরত চাইলে বলা হয়, আপনার টাকা থেকে রাস্তা সংস্কারবাবদ কিছু খরচ হয়েছে। ওই টাকা বাদ দিয়ে বাকি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করলে আবারও টালবাহানা শুরু করেন। তিনি আরও জানান, কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। স্থানীয় হযরত শাহ কবির (র.) মাজারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কমকর্তা মাঈন উদ্দিন বুধবার রাত ৮টার দিকে সাংবাদিককে বলেন, মামলার ঘটনাটি ওসি স্যার আমাকে অবগত করেছেন। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এখনও মামলার ডকুমেন্টটি বুঝে নিতে পারিনি। আমি এখন থানায় যাচ্ছি। ডকুমেন্টটি বুঝে নেয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

