স্পোর্টস ডেস্ক : মাত্র ৫ রানের জন্য ডোনাল্ড তিরিপানোকে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি দেননি আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান। খানিক বাদে তিনি নিজেও অল্পের জন্য মিস করেছেন সেঞ্চুরি। তবে সেটি রান বা উইকেটের নয়, ওভারের সেঞ্চুরি।
আবুধাবিতে চলতি টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাই প্রায় ১০০ ওভার বোলিং করেছেন রশিদ। প্রায় শব্দটি ব্যবহার করতে হচ্ছে মাত্র ৪ বলের জন্য। কেননা ম্যাচের দুই ইনিংস মিলে মোট ৯৯.২ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন রশিদ। মাত্র ৪ বলের জন্যই হয়নি সেঞ্চুরি।
ম্যাচে ওভারের সেঞ্চুরি করতে না পারলেও, চলতি শতকে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ বোলিংয়ের রেকর্ড ঠিকই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ২০০০ সালে ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত হওয়া ৯৩৫টি টেস্টের মধ্যে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৯.২ ওভার বোলিং করেছেন রশিদ।
চলতি শতকে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ বোলিংয়ের রেকর্ডটা এতদিন ছিল শেন ওয়ার্নের দখলে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০২ সালের কেপটাউন টেস্টে হাত ঘুরিয়েছিলেন ৯৮ ওভার। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার আরও ১.২ ওভার বা ৮ বল বেশি করেছেন আফগান রশিদ খান।
শুধু যে সর্বোচ্চ বোলিংই করেছেন রশিদ- এমন নয়, তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারও। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২.৫ ওভারে ১৩৭ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যা তার পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৩৬.৩ ওভার বোলিং করে ১৩৮ রানে নিয়েছিলেন ৪টি উইকেট। অর্থাৎ ম্যাচের দুই ইনিংসে ৯৯.২ ওভারে ২৭৫ রানে ১১ উইকেট গেছে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই স্পিনারের ঝুলিতে।
রশিদের ভেলকির কারণেই প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও বেশিদূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা অলআউট হয়েছে ৩৬৫ রানে। ফলে ম্যাচ জিতে সমতায় থেকে সিরিজ শেষ করতে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য এখন মাত্র ১০৮ রানের। এ রান করতে তাদের হাতে রয়েছে ৪৫টি ওভার।
আফগানদের প্রথম ইনিংসে করা ৫৪৫ রানের জবাবে ফলোঅনে পড়ে সফরকারী জিম্বাবুয়ে, পিছিয়ে ছিল ২৫৮ রানে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। আফগানিস্তানের চেয়ে ১১৬ রানে পিছিয়ে থাকতেই হারিয়ে ফেলে ৭টি উইকেট।
মাত্র ১৪২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন চোখরাঙানি দিচ্ছিল ফলোঅন, তখনই প্রতিরোধ গড়েছে উইলিয়ামস-তিরিপানো জুটি। শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে ২৫৬ বলে ১২৪ রান যোগ করে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন এ দুজন।
আজ (রোববার) ম্যাচের শেষদিনও শুরু করেন আগেরদিনের মতোই। দুজন মিলে কাটিয়ে দেন প্রায় দুই ঘণ্টা। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগ দিয়েই ঘটে গড়বড়! দিনের ২৯তম ওভারে গিয়ে জুটিটি ভাঙেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। ততক্ষণে নব্বই পেরিয়ে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছিলেন ডোনাল্ড তিরিপানো।
কিন্তু কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের দেখা পাননি এ পেসার। রশিদ খানের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে যান তিনি। ফলে সমাপ্তি ঘটে ২৫৮ বলে ৯৫ রানের লড়াকু ইনিংসের। মাত্র ৫ রানের জন্য ১৬ চারের মারে খেলা ইনিংসটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি তিনি।
রেকর্ড ১৮৭ রানের জুটি গড়ে তিরিপানো ফিরে যাওয়ার পর শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আর ৩৬ রান যোগ করতে পেরেছেন অধিনায়ক উইলিয়ামস। তিনি শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫১ রান করে।
জিম্বাবুয়ের ৩৬৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পেছনে অবশ্য বড় দায় নিতে হবে আম্পায়ারকে। ব্লেসিং মুজুরাবানিকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন উইলিয়ামস। তখন আমির হামজার বলে মুজুরাবানিকে ভুল কট বিহাইন্ড আউট দেন আম্পায়ার। ফলে ইতি ঘটে মুজুরাবানির ৪৩ বলে ১৭ রানের ইনিংসের।
পরে শেষ ব্যাটসম্যান ভিক্টর নিয়ুচি এক বলের বেশি খেলতে পারেননি। মুখোমুখি প্রথম বলেই তিনি পড়েন লেগ বিফোরের ফাঁদে। নিয়ুচিকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার তুলে নেন রশিদ। অপরপ্রান্তে হতাশ মুখে নিজ দলকে অলআউট হতে দেখেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।
এদিনে রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি আফগানদের। প্রথম ওভারেই তারা হারিয়েছে জাভেদ আহমাদির উইকেট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩.৪ ওভারে তাদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৪ রান। ম্যাচ জিততে প্রয়োজন আর ৯৪ রান।

