বিশেষ প্রতিবেদক : ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এখর আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। ‘মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন’ এখন দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে অন্ধকার মুক্ত করতে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল দেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেন নানামুখি পদক্ষেপ। নিন্দুকরা ঐ সময় ব্যাপক সমালোচনার ঝড়ও তোলেন। বিদ্যুৎ খাতে প্রধানমন্ত্রী বড় বড় মেগা প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যান। বাংলাদেশে যে কয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা রয়েছে এর মধ্যে আরইবি সর্বাগ্রে। গ্রামীন জনপদের সঙ্গেও রয়েছে আরইবি’র সুসম্পর্ক। ফলশ্রুতিতে দেশকে অন্ধকার মুক্ত করার বড় একটি অংশেরই দায়িত্ব পড়ে আরইবি’র উপর। এই কঠিন দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রী খুঁজতে থাকেন সৎ, ন্যায়পরায়ণ, পরিশ্রমী, চৌকস ও সাহসী একজন যোদ্ধাকে। প্রধানমন্ত্রী পেয়েও যান তাকে। সেই সাহসী যোদ্ধা মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ কারণে আরইবি চেয়ারম্যানকে নানা প্রতিকূলতারও সম্মুখিন হতে হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ) ডুবন্ত আরইবিকে তীরে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। গ্রহণ করেন নানামুখি পরিকল্পনা। চেয়ারম্যানের নানামুখি পরিকল্পনায় অতি স্বল্প সময়েই দেশবাসীর কাছে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় আরইবি। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ) দুর্নীতি বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যান তিনি। প্রান্তিক মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন। কিভাবে দালাল চক্র এবং অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারিরা গ্রাহকদের জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন, সেই কৌশল সম্পর্কে তিনি অবগত হয়ে তা নির্মূলে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন। নির্ধারণ করেন কর্মকৌশল। শুরু করেন স্পষ্ট মিটারিং কার্যক্রম। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হ্যান্ডবিল, মাইকিং, পোস্টারিং, সভা, সেমিনার, উঠান বৈঠকসহ ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেন এবং দ্রুততার সঙ্গে তা বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টদের।
আরইবি চেয়ারম্যানের সূচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৭ লাখ গ্রাহক বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিনের (অব.) নেতৃত্বে ইতোমধ্যে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০১১ সালে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরে আসতে শুরু করে। আরইবি’র ৩ কোটি ৭ লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে প্রতিষ্ঠাকাল হতে ২০০৮ পর্যন্ত ৩০ বছরে ছিল মাত্র ৭৪ লক্ষ, যা জনগোষ্ঠীর ২৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশলী নেতৃত্বে বিদ্যুৎ খাতে শুরু হয় নতুন পথ চলা। আসে ঐতিহাসিক ঘোষণা ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’। আরইবিতে চলতে থাকে মাসে ৩ লক্ষাধিক গ্রাহক সংযোগ এবং বছরে ৭১ হাজার কিলোমিটার লাইন নির্মাণের মত বিশাল কর্মযজ্ঞ। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শীতে কম্পিত হয়ে, খেয়ে না খেয়ে এ মহান দায়িত্ব প্রতিনিয়ত পালন করে যাচ্ছেন আরইবি তথা পবিস এর কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এমনকি করোনার দুর্যোগকালেও ‘আলোর গেরিলা’ হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং তা সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩২৫ জন বিদ্যুৎ কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারি/পরিবারের সদস্য মৃত্যুবরণ করেন।
সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ইতোমধ্যে ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার সেচযন্ত্র, ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১ লক্ষ ৯২ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান, ১৫,৫০০টি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদের ৪৫৫৪টি ডিজিটাল ইনফরমেশন সেন্টার, আশ্রয়ন প্রকল্পের ১১৯২টি গ্রাম, ছিটমহল, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ১৩৮৫০টি পাওয়ার লুম, ১০৪৩৯টি হাঁস-মুরগির খামার, ৫৬৬৬টি মৎস্য খামার এবং ১২২৪টি দুগ্ধ খামারে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। মাদার অব হিউমিনিটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য আবাসনের মহতী উদ্যোগের সাথে একাত্ম হয়ে তাদের জন্য ৯১টি গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছে আরইবি।
এছাড়াও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দেশের কিছু চরাঞ্চল, দুর্গম ও অবহেলিত এলাকায় বিদ্যুতায়নের জন্য নানামুখি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মুজিববর্ষেই পটুয়াখালী জেলার দ্বীপাঞ্চল রাঙাবালি উপজেলাসহ অবশিষ্ট ১০৫৯টি গ্রামের ২.৫ লক্ষ গ্রাহকের নিকট বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে আরইবি। এছাড়া গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে ‘মুজিববর্ষ পল্লী বিদ্যুতের সেবা বর্ষ’ হিসেবে পালন করছে আরইবি। সবমিলিয়ে আকাশচুম্বী সফলতার দ্বারপ্রান্তে এখন আরইবি।

