ঢাকাTuesday , 9 February 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাধীনতার ৫০ বছরে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ

Link Copied!

সজীব আহমেদ : স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের বিদ্যমান পরিস্থিতি পেছনে ফেলে ৫০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এখন গ্রিড এলাকায় দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। পাহাড়, কিছু দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন অফগ্রিডের ১ শতাংশ এলাকায় আগামী মার্চের মধ্যেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে। সেই হিসাবে মুজিববর্ষেই দেশের গ্রিড-অফগ্রিড মিলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় চলে আসবে। সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ সাফল্যের বেশির ভাগ এসেছে ২০০৯-২০২০ সালে অর্থাৎ মাত্র ১১ বছরে। স্বাধীনতার ৩৯ বছরে (১৯৭১-২০০৯) যেখানে ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে, সেখানে ২০২১ সালের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ১২ (২০০৯-২০২১) বছরে অবশিষ্ট ৫৩ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ‘স্বপ্নের’ মতোই মনে হয়েছিল। সেই স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ-মুজিববর্ষেই পূর্ণ হচ্ছে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কর্মসূচি। এর মাধ্যমে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অঙ্গীকারও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করেছে।
মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী জাতীয় জীবনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সন্ধিক্ষণে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিঃসন্দেহে অনন্য এক জাতীয় অর্জন। এই অর্জনের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের। ২০০৯ সালের আগে বিদ্যুতের অভাবে দেশের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর, শিল্প-বাণিজ্য ছিল স্থবির এবং জনজীবনে লোড শেডিং ছিল অসহনীয়। দেশে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুতায়নে সক্ষমতা অর্জন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী, সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণে লোড শেডিং কমে গেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় একটি প্রসারও হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, চাহিদা যদিও ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা এখন বাংলাদেশের রয়েছে। বাংলাদেশে ২০৪১ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনায় দেশে বিদ্যুতের প্রয়োজন হিসাব করে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে বিদ্যুৎ খাতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাত। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের অংশীদারি এখন প্রায় অর্ধেক। বিপুল বিনিয়োগে সক্ষম এই বেসরকারি খাত দক্ষ জনবলে সমৃদ্ধ। কর্মসংস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বেসরকারি খাত। বিদ্যুৎ খাতের এই অগ্রগতি সারা দেশের চিত্রই পাল্টে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগে এই (শতভাগ বিদ্যুৎ) লক্ষ্য পূরণে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতাও ছিল। এর মধ্যে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আবার মানুষ নিজের গ্রাম, আদিনিবাস ছেড়ে ‘মাঠে-প্রান্তরে’ কিংবা নতুন সড়কের পাশে বাড়িঘর তৈরি করছে। ফলে বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদার জোগান দেওয়ার পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিদ্যুৎ বিভাগকে এগোতে হচ্ছে। এসব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সাফল্যের দৃষ্টান্তও রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
পাওয়ার সেলের তথ্য মতে, স্বাধীনতার আগে (১৯৭১ সাল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০-এর কম। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪০। উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৩০০ মেগাওয়াট। এখন উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ)। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ছিল ৩ শতাংশ, এখন বেড়ে হয়েছে ৯৯ শতাংশ। বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা হয়েছে তিন কোটি ৮৯ লাখ। আগে আমদানি করা বিদ্যুৎ ছিল না, বর্তমানে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা হয়েছে ৪৭ হাজার ৮২৪ এমভিএ। সঞ্চালন লাইন এখন ১২ হাজার ৪৪৪ সার্কিট কিলোমিটার। বিতরণ লাইন এখন বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টায়। বিতরণ সিস্টেম লস এখন কমে হয়েছে ৮.৭৩ শতাংশ।
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘স্বাধীনতার পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিয়ে সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে গ্রামীণ বিদ্যুতের কথা তিনি বলেছেন। মূলত বিদ্যুৎ খাত বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছে। তবে গ্রিড এলাকায় এখন শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আর আগামী মার্চের মধ্যে গ্রিড ও অফগ্রিড মিলিয়ে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা গ্রিডের বিদ্যুৎ শতভাগ মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। আশা করছি, অফগ্রিডের বাকি ১ শতাংশ কাজ আগামী মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করে ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, শহরে বিদ্যুৎ, গ্রামকেও বিদ্যুতায়িত করতে হবে। এ বিষয় মাথায় রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যাত্রা শুরু করেছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে।’