
মো. জিয়াউল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের সকলকে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভীর কারণে রেজিস্ট্রেশন পরিবারের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলেই রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো। সর্বোপরি রেজিস্ট্রেশন বিভাগের মানোন্নয়ন, সংস্কার ও অস্তিত্ব রক্ষায় আজীবন কাজ করে যাব। উপরোক্ত মন্তব্য করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা রেজিস্ট্রার মো. জিয়াউল হক। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন (বিআরএসএ) নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ব্যাপক জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্ব দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজকে জড়িয়ে রেখেছেন। বিআরএসএ সভাপতি মো. জিয়াউল হক ১৯৯৪ সালে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের পরপরই বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ‘সমস্যা ও সম্ভাবনা’ তাকে ভাবিয়ে তোলে। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বিআরএসএ’র সঙ্গে সুগভীর সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হবার পর মো. জিয়াউল হক বিভিন্ন মেয়াদে নির্বাহী সদস্য, কল্যাণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-২০১৯ মেয়াদে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মো. জিয়াউল হক বিআরএসএ’র সভাপতি নির্বাচিত হবার পর বিগত সময়ে সদস্যগণের দীর্ঘদিনের দাবি দাওয়া পূরণে ব্যাপক তৎপর ছিলেন। যে কারণে বিআরএসএ’র সদস্যরা তাকে পুনরায় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন। গত মেয়াদে বিআরএসএ’র সভাপতি মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্ব এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে কার্যকর, গতিশীল ও পূর্ণাঙ্গ রূপদানে সক্ষম হন। এছাড়া জেলা রেজিস্ট্রার পদটিকে ৭ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে উন্নীতকরণ, অধিদপ্তরে বিদ্যমান পদ ব্যতীত আরও ১টি অতিরিক্ত আইজিআর, ১টি ডিআইজিআর, ৮টি এআইজিআরসহ মোট ৪৯১টি পদ সৃষ্টিকরণ, নিবন্ধন অধিদপ্তরে মোট ৯টি এআইজিআর ও ৬টি আইআরও পদকে ৫ম গ্রেডে, ১টি ডিআইজিআর পদকে ৪র্থ গ্রেডে, ১টি অতিরিক্ত আইজিআর পদকে ৩য় গ্রেডে এবং আইজিআর পদটিকে ৫ম গ্রেড থেকে ২য় গ্রেডে অনুমোদন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য ২টি জিপ গাড়ির অনুমোদন, সর্বাধিক সংখ্যক কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, করোনাকালীন সময়ে সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা, আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আনোয়ার খান হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রথমবারের মতো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্টেনজেন্সি খাতে বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, অস্বচ্ছল কর্মকর্তাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য বিপর্যয়ে এবং মৃত কর্মকর্তাদের অসহায় পরিবারকে বিআরএসএ’র কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান ও সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কর্মকর্তাদের ১ দিনের বেতনসহ মোট দশ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান, শীতার্ত ও বন্যার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের হয়রানির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনী ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান, টিআইবি কর্তৃক প্রণীত রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাল্পনিক ও মনগড়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও বাস্তব অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরা এবং বিভাগের অস্তিত্ব রক্ষায় সজাগ, সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। অপরদিকে, বিগত কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে যে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে সেগুলোও তিনি তুলেন ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য জমি বরাদ্দ ও ভবন নির্মাণ, জেলা রেজিস্ট্রারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা, আইআরও পদটিকে ডিআইজিআর-এ রূপান্তর, নবসৃজিত পদের নিয়োগবিধি অনুমোদন এবং টিসি শাখার সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিকরণ।
বিআরএসএ’র সভাপতি মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি আরও ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এ সকল কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সিনিয়র সাব রেজিস্ট্রার ও অতিরিক্ত জেলা রেজিস্ট্রার পদ সৃষ্টি করা, কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্থায়ী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, রেজিস্ট্রেশন বিভাগীয় যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এনে ই-রেজিস্ট্রেশন চালুকরণ, নিজ জেলার সন্নিকটে কর্মকর্তাদের বদলিসহ চাকরিজীবী দম্পতিদের নিকটবর্তী কর্মস্থলে পদায়নের দাবি বাস্তবায়ন এবং রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস ক্যাডারভুক্ত করার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সর্বোপরি সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্য কর্মচারিগণের নিরাপত্তা বিধানে বিআরএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিআরএসএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা রেজিস্ট্রার মো. জিয়াউল হক সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

