নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ক’বছর আগেও যে অফিসে ভিড় সারাক্ষণ লেগে থাকতো, সেখানে এখন অনেকটাই শান্ত পরিবেশ। সেবাগ্রহীতাদের আগের মতো তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায় না। কমে গেছে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতাও। ফলশ্রুতিতে ব্যবসা সহজীকরণ, সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে আরেক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে একক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পাল্টে গেছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি)। কোম্পানির নামের ছাড়পত্র, নিবন্ধন ও পেমেন্ট সিস্টেম একক পদ্ধতিতে আনা হয়েছে। ফলে উদ্যোক্তাদের হয়রানি লাঘব ছাড়াও দুর্নীতি-অনিয়মের সুযোগ অনেকটা বন্ধ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও আরজেএসসি নিবন্ধক মো. মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত ‘একক পদ্ধতিতে নিবন্ধন’ সংক্রান্ত পরিপত্রটি জারি হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি। এতে বলা হয়, বিদ্যমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নামের ছাড়পত্র গ্রহণ, নিবন্ধনের আবেদন ও ফিস প্রদান পৃথক পৃথকভাবে সম্পন্ন হতো। একক পদ্ধতিতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী আরজেএসসি’র অনলাইন সিস্টেমে প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম সার্চ করে যাচাই করে নিতে পারবেন- যাতে জানা যাবে সাদৃশ্যপূর্ণ কিংবা সমোচ্চারিত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত আছে কি-না। এরপর প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম, উদ্যোক্তাগণের বিবরণ, সংঘস্মারক ও সংঘবিধি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করবেন। প্রস্তাবিত নামটি নিবন্ধনযোগ্য কি-না অনলাইন সিস্টেম তৎক্ষণাৎ যাচাই করে ফলাফল প্রদান করবে। প্রস্তাবিত নামটি নিবন্ধনযোগ্য না হলে নাম পরিবর্তন কিংবা নাম প্রাপ্তির জন্য রিভিউ আবেদন করে নামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যাবে। কোম্পানির নাম প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি (সংঘস্মারক ও সংঘবিধি) স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। তারপরই অনলাইন আবেদন ফরম চূড়ান্তভাবে দাখিল করলে নিবন্ধন ফি জমা প্রদান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নাম প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন ফরম চূড়ান্তভাবে দাখিল ও ফি প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। দাখিলকৃত ডকুমেন্ট ও ফি সঠিকভাবে পাওয়া গেলে কোম্পানি নিবন্ধন প্রদান করতঃ ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষরযুক্ত সার্টিফিকেট এবং সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সার্টিফাইড কপি আবেদনকারীর ই-মেইলে প্রেরণ করা হবে। যা গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এদিকে উদ্যোক্তাদের হয়রানি লাঘবে মর্টগেজ (বন্ধক) নিবন্ধন কার্যক্রম গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে আরজেএসসিতে। সূত্র জানায়, পূর্বে মর্টগেজ (বন্ধক) নিবন্ধন ও নিবন্ধিত কোম্পানির নাম পরিবর্তনের জন্য কয়েক দফা অফিসে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হতো উদ্যোক্তাদের। পরিবর্তিত নিয়মে উদ্যোক্তা এবং বন্ধক বা চার্জ সৃষ্টিকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে দাখিলের পাশাপাশি হার্ডকপিতে পক্ষগণের স্বাক্ষর করে মূলকপি এবং বন্ধক বা চার্জ সৃষ্টিকারী দলিলের ফটোকপি সত্যায়ন করে অফিসে জমা দিতে হবে। দাখিলকৃত কাগজাদি পরীক্ষান্তে সঠিক পাওয়া গেলে বন্ধকের বিবরণী বা চার্জ নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর ই-মেইলে সরাসরি প্রেরণ করা হবে। অনুরূপ নিবন্ধিত কোম্পানির নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দাখিলকৃত কাগজাদি পরীক্ষান্তে সঠিক পাওয়া গেলে নাম পরিবর্তনের সার্টিফিকেট ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদনকারীর ই-মেইলে সরাসরি প্রেরণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একের পর এক যুগান্তকারী কর্মকাণ্ড আরজেএসসিকে প্রথম ডিজিটাল অফিস হিসেবে দেশে ও বিদেশে পরিচিত করে তুলেনি, একইসঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতীয় সংসদে এক ব্যক্তির কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে কোম্পানি আইন পাস হওয়ায় ব্যবসা সহজীকরণ ও সম্প্রসারণ ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায় পরিবেশের সূচকে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে যাবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া স্বয়ংক্রিয় পরিচালন পদ্ধতি (অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেম) চালু হবার মাধ্যমে আরজেএসসি পরিপূর্ণ পেপারলেস অফিসে রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। এতে করে কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমন কমেছে দুর্নীতি-অনিয়মসহ হয়রানি। মোদ্দাকথা, দক্ষ নেতৃত্ব এবং একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সেবাগ্রহীতারা অধিকাংশ কাজ অফিসে না এসেই সম্পন্ন করতে পারছেন।

