ঢাকাMonday , 4 January 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড়ের বুকে দৃষ্টিনন্দন লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান

Link Copied!

পাহাড়ের বুকে এ সবুজ উদ্যান বিনোদন ছাড়াও শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে

দেশের প্রথম ফরেস্ট মিউজিয়াম গড়ে তোলার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি : কুমিল্লার বিনোদন জগতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে দৃষ্টিনন্দন লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান। জেলার বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারিভাবে বন বিভাগের অধীনে পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা এ উদ্যান শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষা ও গবেষণার কাজেও অপরিসীম ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধান বন সংরক্ষক।
সম্প্রতি এটি উদ্বোধন করে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, এখানে দেশের প্রথম ফরেস্ট মিউজিয়াম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রাথমিকভাবে ১৭ একর ভূমির ওপর এ উদ্যানটি স্থাপন করা হয়েছে। এর আশপাশের আরও অন্তত ৩০-৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে এটিকে জাতীয় মানের একটি উদ্যান হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয় একটি মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করেছে। এ কাজের প্রাথমিক অংশের উদ্বোধন হল। এ উদ্যান সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে কুমিল্লা অঞ্চল তথা গোটা দেশবাসী বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার কাজ করতে পারবেন।
প্রধান বন সংরক্ষক জানান, এ উদ্যানের ৯০ ভাগ গাছই বিরল এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির। এখানে এসব উদ্ভিদই বেশি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্য কাজে আসবে।
লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূরুল করিম, বন কর্মকর্তা তোশারফ হোসেনসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে প্রবেশ করতে টিকিটের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিট ৫ টাকা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ৪০০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এ উদ্যান।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের ময়নামতি জাদুঘরের কাছে সালমানপুর নামক স্থানে অবস্থিত লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান। উদ্যানটিতে বিরল প্রজাতির অশোক, অর্জুন, আগর, আমলকী, কনক, কাঞ্চন, বনপেয়ারা, খাটজারুল, গর্জন, গোলাপজাম, চন্দুল, তুন, ঢাকিজাম, তেলশুর, নাগেশ^র, নাগলিঙ্গম, বাসক, বৌদ্ধনারকেল, বৈলাম, মহুয়া, শরতীলেবু, সফেদা, সজিনা, সাতকরা, সিভিট, হরিতকি ও জিলসহ আরও নানা প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এ উদ্যানে।
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, এ উদ্যান নতুন প্রজন্মকে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আয়তন বাড়ানোর জন্য আমরা অধিদপ্তরে আবেদন জানিয়েছি। সেখানে ময়নামতি জাদুঘরের মতো ফরেস্ট মিউজিয়াম করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এদিকে আমাদের জনবলেরও অনেক সংকট রয়েছে। বর্তমান উদ্যানটি অন্যত্র থেকে এনে তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারি দিয়ে চালাচ্ছি। এখানে রেঞ্জ অফিসার, বিট অফিসার, বোটানিস্ট ও কিউরেটরসহ ২৫ জন লোকবল প্রয়োজন। কুমিল্লা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পর কুমিল্লার লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান দেশের তৃতীয় বিরল উদ্ভিদ উদ্যান। ২০১৫ সালে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছর এটির কাজ শেষ হয়। এ উদ্যানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর নির্ভয় আবাসস্থল তৈরি, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি। এ ছাড়া বিনোদনের ব্যবস্থা ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমান উদ্যানের নিকটবর্তী বন বিভাগের ৩০ একরের মতো প্রাকৃতিক শালবাগান রয়েছে। মাঝে আরও ৩০-৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে ক্যাকটাস হাউস, অর্কিড হাউস, ফুলের বাগান, বিরল উদ্ভিদ বাগান, বন্যপ্রাণীর জন্য জলাশয়, বিভিন্ন প্রজাতির ঘাসের চাষ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বেশকিছু আরসিসি বেঞ্চ ও ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বিশ্রামাগার। লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে পাহাড়ের মাথায় ইট বিছানো পথে সবুজের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে ঝরে যাবে সব ক্লান্তি। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনে আর বাড়ি ফিরতে মন চাইবে না অনেক ভ্রমণপিপাসুর।