ঢাকাMonday , 28 December 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শামুকখোল তাড়াতে গাছ ন্যাড়া!

Link Copied!

রাজশাহী প্রতিনিধি : তিন-চার বছর ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরের গাছগুলোতে নির্ভয় আবাস ছিল শামুকখোল, পানকৌড়ি ও নিশি বকের। সেই আবাসেই করাত চালাল খোদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাখিদের তাড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের একটি প্রকাণ্ড কড়ই গাছ ন্যাড়া করছিলেন কর্মীরা।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালের এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেমেছে করাত। আপাতত রক্ষা পেয়েছে পাখিদের আবাস।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গাছে আশ্রয় নেয়া পাখিদের বিষ্ঠা পড়ছিল সেবা নিতে আসা লোকজনের গায়ে। এছাড়া হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত হচ্ছিল।
পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামিম ইয়াজদিন জরুরি বিভাগ ও গণশৌচাগারের সামনের দুটি গাছ ন্যাড়া করার নির্দেশ দেন।
আদেশ পেয়ে সোমবার সকালে জরুরি বিভাগের সামনের গাছটি ন্যাড়া করার কাজ শুরু করেন কর্মীরা। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান গণমাধ্যমকর্মীরাও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণমাধ্যমকর্মীরা পৌঁছানোর পর তাদের বাধা দেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডাও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে গাছ না কেটেই ফিরে যান হাসপাতালের কর্মীরা।
এ নিয়ে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে মোবাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামিম ইয়াজদিন জানান, হাসপাতাল কখনো পাখির অভয়ারণ্য হতে পারে না। এটি হাসপাতালের কনসেপ্টের সঙ্গে যায় না।
তিনি জানান, পাখির বিষ্ঠায় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই জরুরি বিভাগ ও শৌচাগারের সামনের দুটি গাছের ডাল কাটার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
দীর্ঘদিন ধরেই রামেক ক্যাম্পাস, রামেক হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এলাকায় অবাধ বিচরণ বিভিন্ন জাতের পাখ-পাখালির। পাশের সড়ক বিভাজকেরও গাছগুলোতে বাসা বেঁধেছে পাখিরা।
সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে শামুকখোল পাখির বাসা ভাড়ার জন্য পাঁচজন বাগান মালিককে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আমচাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বরাদ্দ দেয়া হয়।
বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালের শেষে বাচ্চা ফোটানোর আগে খোর্দ্দ বাউসার এই আমবাগানে বাসা বাঁধে শামুকখোল পাখি। গত বছর বাগান মালিক বাগান পরিচর্যায় পাখিদের উচ্ছেদের উদ্যোগও নেন। তাতে বাধা দেন স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা।
পরে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশেই ক্ষতিপূরণ পান বাগান মালিকরা।