ঢাকাWednesday , 2 December 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থেমে নেই নকল ও ভেজাল ওষুধের উৎপাদন

Link Copied!

এস এম বদরুল আলম : সাম্প্রতিকালে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের  চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় ঔষধ প্রশাসন সারাদেশে এবং র‌্যারের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উদ্যোগে ওষুধ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশব্যাপি বিভিন্ন জেলাশহরগুলোর ফার্মেসীসহ দেশের পাইকারি ও খুচরা ওষুধ মার্কেটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা কলেজগেট, শ্যামলী, মিডফোর্ট, উত্তরা, বাড্ডা, গাজীপুর, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলা। পাশাপাশি  অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া জেলার ওষুধ শিল্পে তালিকাভুক্ত ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল কোম্পানীর মধ্যে ৩৪টি কোম্পানী থাকলেও ৬/৭টি কোম্পানী মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করছে বলে জানা গেছে। বাকীগুলোর অবস্থা জাঁকজমক নকল-ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ বাজারজাতের কল্যাণে। বিশেষ করে, রেমেক্স ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, কিউব ফার্মাসিউটিকাল ইউনানী, নিকো আয়ুর্বেদিক, জনতা ড্রাগ ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, কনফিডেন্স ফার্মাসিউটিকাল আয়ু, আরকে ইউনানী, এডল্যাব ফার্মাসিউটিকাল আয়ু, ইউনিজেম ফার্মাসিউটিকাল ইউনানী, ফেয়ার ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, ইউনাইটেড ফ্রেন্ডস ল্যাব: ইউনানী, বিজি ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, পিএম ল্যাবরেটরীজ ইউনানী, নিরাময় ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, ফার্মাজেম ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, রেডরোজ ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, ইউনিকেয়ার বাংলাদেশ ইউনানী, ইউনিয়ন ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, উত্তরা ল্যাবরেটরিজ ইউনানী, ইষ্টল্যান্ড ল্যাবরেটরীজ ইউনানী, লিবারেট ল্যাবরেটরিজ আয়ু, দি ওরিয়েন্ট ল্যাবরেটরিজ আয়ু অন্যতম।
ময়মনসিংহের নকল ও ভেজালকারী মো. কামরুল ইসলাম যুবদল, বিএনপি ও সমন্বিত সড়ক পরিবহনের নেতা বলে পরিচয় দেয়। ইতোমধ্যে  বিভিন্ন কোম্পানীর লেভেল কার্টুন নকল করে ওষুধ উপাদন করে আসছে বলে সূত্র মতে জানা যায়। যার মধ্য রয়েছে জেসিআই, সবুজ ফার্মাসিউটিক্যাল, জেনিয়াল ইউনানী, প্রিভেন্টিস বাংলাদেশ ইউনানী, এমী  ল্যাবলোটরী আয়ু, কনফিডেন্স ফার্মাসিউটিক্যাল (আয়ু), ভিগো ল্যাবলোটরী, একরাম ল্যাবলোটরীসহ বিভিন্ন কোম্পানীর ওষুধ, যা সরাসরি স্টার মেডিকেল হল, রনি মেডিকেল হল, জয়দের মেডিকেল হল, পারুল মেডিকেল হল, একতা ফার্মেসী, কামরুল মেডিকেল হল, সায়মন ড্রাগস, শিরিন মেডিকেল হল, গৌরঙ্গ বাজার কিশোরগঞ্জের  উজ্বল হোমিও হলে সরাসরি বিক্রয় করছে, এছাড়া ময়মনসিংহের দূর্গাবাড়ি কামরুলের নিজের দোকান সৃজন ফার্মেসীতে সরাসরি নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর মালিকগণ অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।
রেমেক্স ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর জেলরেক্স, নুজাভিট-প্লাস, জিন্যাপ, আমরেক্স, ইরোক্যাপ, মেনোসেফ, ভিক্যাল-প্লাস, লিউসেইফ, ইরোক্যাপ, কনেক্স, টুগ্রেইন, ম্যাফাক্যাল, নিমটেক্স, ফেরোভাল, জাইভেন, আইপোমেট ও রেনসিড ওষুধ উৎপাদনে ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত। ০৩/০৪/২০১৯ ইং তারিখ বগুড়ায় সাত মাথার খান মার্কেটের ৪র্থ তলায় কোম্পানীর গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের যৌনবর্ধক ওষুধ ও অবৈধ ফুডসাপ্লিমেন্ট জব্দ করেন। তাছাড়া বিএসটিআই’র লোগো লাগিয়ে শ্যাম্পু ও সাবান বিক্রির অভিযোগে গোডাউন সিলগালা করে জরিমানা করেন। তারপরও রেমেক্স ল্যাবরেটরিজ এর পুরানো ব্যবসার কারসাজী এখনও বন্ধ হয়নি।
ফেয়ার ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর ৭টি ওষুধ জেনেরিক নামে অনুমোদন থাকলেও ট্রেড নামে বাজারজাত করছে এসিভিট, এ্যাকটিভিট, ফেবিটন, ফাইলেক্স, ফিউমা, সেব-প্লস, জিনসিন-এফ, নিশাত-এফ, পিওর-৩০, সাইট্রিনা, কাইলোসিন, ফাইলেক্স, জিজিটন, নিমটেক্স, মোকাব্বি ও আইরোফেন সিরাপ। কোম্পানীর মাজুন সুপারী প্যাক সেমিসলিড হলেও লিকুইড হিসেবে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। তাছাড়া ক্যাপসুল-ট্যাবলেট উৎপাদনের অনুমতি না থাকলেও ভিটামিন ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। জিনসিন-এফ, নিমটেক্স, ফাইলেক্স, আতফাল, নিশাত-এফ, পাওয়ার-৩০, একটিভিট, ফেভিটন, সেব-প্লাস এর অনুমোদন না থাকলেও প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। গত ১৩/১১/২০২০ ইং তারিখ বগুড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফেয়ার ল্যাবরেটরীজের কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার অবৈধ ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করে ৩০ হাজার টাকা জরিমান করেন। ইতোপূর্বে সাবেক ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসাইন প্রায় ১ লাখ টাকার অবৈধ ওষুধ জব্দ করে ২লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। মালিকানা পরিবর্তন ও নবায়নবিহীন কোম্পানীর কারখানা সিলগালা না করায় স্বঘোষিত কোম্পানীর মালিক বেলাল হোসেন ভেজাল। ব্যবসায় এখনও সক্রিয়।
কিউব ফার্মাসিউটিকাল ইউনানীর নাম ও প্রডাক্টের নাম। ড্রাগের ওয়েব সাইটে না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি বাজারজাত করছে। কিউভিট-প্লাস, এক্সেল-পাওয়ার, এ-টু-জেট ভিটামিন, আমলা-১০, ভিগার, গ্যাস্টোলিন, ভিড়াপেক্স, কিউ-ফ্রাম, ক্যাল-কিউ, জিনসিন, হাব্বে নিশাত, দিনার, কিউ-নুকরা, কিউ-রাল জি, কুড়চি ও কিউ-প্রোফেরন। প্রতিটি ওষুধের লেবেল-কার্টুনে হারবাল ভিটামিন, মিনারেল ও এ-টু-জেড লাগিয়ে বাজারজাত করছে। আর কিউভিট-প্লাস ও জিনসিন-এ ভিটামিন এ ও সি অভাবজনিত রোগের শ্লোগান দিয়ে যৌনবর্ধক ওষুধ বিক্রি করে আসছে।
ইউনাইটেড ফ্রেন্ডস ল্যাবরেটরিজ ইউনানী প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইউ-প্লেক্স, আমলা, এনার্জী-গেইন, তুলশী, ম্যাক্স-গোল্ড বিক্রি করলেও এসব ওষুধ ট্রেডনামে। অনুমোদন নেই। এমনকি ড্রাগের ওয়েব সাইটে কোম্পানীর নাম ও প্রডাক্টের। নামের তালিকা না থাকলেও ২০ প্রকারের ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের। অভিযোগ ওঠেছে। ইউনিজেম ফার্মাসিউটিকাল ইউনানীর বাজারজাত করা। ইনোভিট-গোল্ড, ইউনিফেরন, জিনজেম-জিনসিন, স্টামিনা-৩, সেফজেম, ইউনিফোর্ট, ইউনি-এক্স, রুচিক্যাপ ও ইউনিক্যাল-ডি, নামের ওষুধে। ক্ষতিকারক উপাদান মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, ইউনিড়াগ ইউনানীর ইউনি-লাহাম ও ইউনিফেরন নামের ২টি ওষুধ নকল করে বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নাকি সবার আগে এই ওষুধের অনুমোদন নিয়েছে। ড্রাগের ওয়েব সাইটের তালিকায় প্রডাক্টের নাম না থাকা। প্রসঙ্গে জানা গেছে, ইউনিকেয়ার ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর নামে প্রস্তাবনা আবেদিত হলেও প্রডাক্টের তালিকা আপগ্রেড করা হয়নি।
জনতা ড্রাগ ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর বাজারজাত করা ইউরোটিন, ইউনিটন, জে-ফেম, এক্সটাপ্লেক্স, ফেরিন, হানিলেক্স, অস্টোডি, হার্টেক্স, স্পীলীনা, মিল্ক-থিসল জিনসিং ওষুধের ছবি অনলাইনে প্রচার করে ডিলার নিয়োগ ও ওষুধ বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন কোম্পানীর এমপিও পারভেজ ও আরিফ। এ ধরণের অনলাইন প্রচারণা ড্রাগ আইনবহির্ভূত অপরাধ।
নিকো আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজের বাজারজাত করা নিকোরোক্স-ডিএস, লিভোরিস্ট, নিকোফেম, ইনোমেট, নিকো-জিংক, নিকো-প্লেক্স, নিকোডেক্স ও ফিভাবিল নিয়ে নানা ধরণের বিতর্ক উঠেছে।
ইউনিয়ন ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর নিজস্ব প্রেস থাকায় বগুড়ার অধিকাংশ কোম্পানীর নকল লেবেল-কার্টুন ছাপিয়ে দিতেন। পরবর্তীতে র্যাব ও ডিবির অভিযানে অনৈতিক কর্মকা- বেরিয়ে আশে তবুও ইউনিফেরন, ইউনিসেব, ইউনিপেপ, ইউনিকফ, ইউ-জয়েন, লিভাটন বাজারজাত করছেন তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এসব ওষুধে ক্ষতিকারক উপাদান মেশানোর অভিযোগ ওঠেছে।
এডলা ফার্মাসিউটিকাল আয়ুর ট্রেড নামের অনুমোদন না থাকলেও বাজারজাত করছে সিনোভিট-এ, জুম-এক্স, ইরোফোর্ড, এম-ট্যাব, ভিমাক্স-এন, এক্সকোর নামের ওষুধ। অপরদিকে রেডরোজ ল্যাবরেটরিজ ইউনানীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সাবেক ড্রাগসুপার শফিকুর রহমান কারখানা সিলগালা করার পর প্রায় ৩ বছর যাবৎ মালিকানা পরিবর্তন ও নবায়ন ছাড়াই ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। বর্তমানে রংপুর ও দিনাজপুরে যেসব ওষুধ বিক্রি করছে তার অধিকাংশ ওষুধ ট্রেড নামের অনুমোদন নেই। এখন নাকি নতুন কারখানা করে বগুড়া ড্রাগ অফিসের সহকারী সাইফুলের সহায়তায় আগের মতই কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজি ল্যাবরেটরীজ ইউনানী, ইষ্টল্যান্ড ল্যাবরেটরীজ ইউনানী, পিএম ল্যাবরেটরীজ ইউনানী একইভাবে নকল ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতে সক্রিয় রয়েছে।
বগুড়ায় অনেক ড্রাগসুপার আসা-যাওয়া করলেও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম দীর্ঘ ২০বছর যাবৎ এখানে অবস্থান করায় নকল-ভেজাল ওষুধ কোম্পানীর সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুর্নীতিবাজ সাইফুলকে রংপুর বদলি করলে সাবেক একজন মহা-পরিচালকের শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধা হওয়ার সুবাধে বদলি ঠেকিয়ে বগুড়া থাকতে সক্ষম হয়। তার অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে বগুড়ার মালতীনগরে স্ত্রীর নামে বাড়ি ও গাইবান্ধায় কয়েক বিঘা জমির মালিক হওয়ার পাশাপাশি ইষ্টল্যান্ড ল্যাবরেটরীজের একজন অংশীদার। এখন বিভিন্নভাবে বর্তমান ড্রাগসুপারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের সেফগার্ড হিসেবে সক্রিয় থাকায় র‌্যাব ও ডিবির চোখের আড়ালে ভেজাল ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে। মাঝে মধ্যে ড্রাগসুপার অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করলেও অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নকল-ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ। ব্যবসায়ীর তালিকায় বগুড়া এখনও শীর্ষে রয়েছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের। বিরুদ্ধে ফুট সাপ্লিমেন্ট ও ফুট সিরাপ উৎপাদন করে অসাধু ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। অফিস সহকারী সাইফুলের কল্যাণে ভেজাল ব্যবসায়ীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাইফুলের বিরুদ্ধে প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা নিলে অভিযুক্ত কোম্পানীর অবৈধ কর্মকা- বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়া এমন কিছু কোম্পানী রযেছে যারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ বানিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। উল্লেখ্য, এসব কোম্পানীর ওষুধ বগুড়া অঞ্চলে বিক্রি না হলেও নওগা, খুলনা, চিটাগাং, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও নারায়নগ-ো বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে বগুড়ার সচেতন ওষুধ ব্যবসায়ীরা ড্রাগ প্রশাসনের মহাপরিচালকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।