ঢাকাSaturday , 31 January 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আত্মগোপনে মেয়র, স্থবির রাসিকের কার্যক্রম

Link Copied!

Rashik meyorরাজশাহী প্রতিনিধি : বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের চলমান হরতাল-অবরোধে নাশকতার তিন মামলায় আসামি হয়ে আত্মগোপনে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে প্যানেল মেয়র-১ গ্রেপ্তারসহ আত্মগোপনে রয়েছেন বেশিভাগ কাউন্সিলর। এতে থমকে গেছে সব ধরনের নগর উন্নয়ন কাজ। কর্মচারীরা এখনো পাননি ডিসেম্বর মাসের বেতন।
নগরীর ভদ্রা ও কাপাশিয়া এলাকায় দুইটি বাস-ট্রাকে পেট্রোল বোমা ও কাদিরগঞ্জ এলাকায় গাড়িবহরে হামলার তিনটি মামলায় আসামি করা হয় সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে। প্রথম মামলার পরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কাজকর্ম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নানান জটিলতার কারণে বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বরং নগরীর শালবাগান মার্কেট, নওদাপাড়া মার্কেট, ভদ্রা মার্কেট, লক্ষ্মীপুর ক্লিনিক, বর্ণালী সিনেমা হলের পেছনের ট্রেনিং সেন্টার, আরডিএ মার্কেটের পাশে দোকানঘর নির্মাণকাজগুলো দরপত্র হওয়ার পরও বাতিল করা হয়েছে।
কর্মচারীরা জানান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে রাজস্ব আদায়েও গতি কমে গেছে। রাজস্ব আয় থেকেই কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়। গত মেয়রের সময়ে মাসের শুরুর দিকেই তারা বেতন পেয়েছেন। এখন আর সেটা হচ্ছে না।
তারা আরও জানায়, বর্তমানে সিটি করপোরেশনে নিয়মিত ৪৮২ জন ও মাস্টাররোলের ২ হাজার ১৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়মিতদের ডিসেম্বর মাসের বেতন দেয়া হয়েছে জানুয়ারির ১০ থেকে ১২ তারিখের দিকে। আর মাস্টাররোলের কর্মচারীদের বেতন এখনো পরিশোধ হয়নি।
সিটি করপোরেশনের হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা জানান, এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়নি। মেয়র হচ্ছেন করপোরেশনের অভিভাবক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের মধ্যে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য নেই।
এ ছাড়া রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন কাউন্সিলরসহ ১০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর নারী কাউন্সিলর মিলে মোট ৪০ জন কাউন্সিলর। তাদের মধ্যে রাসিকের বিএনপিপন্থী কাউন্সিলরের সংখ্যা ২৭। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন। সর্বশেষ প্যানেল মেয়র-১ গ্রেপ্তার হয়ে হাজতে রয়েছেন।
শনিবার সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখা যায়, সবার মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব। কর্মকর্তারা বলেন, ‘সিটি করপোরেশন চলছে, তবে তারা একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। মেয়র না থাকলে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না। আরেক সপ্তাহ তাকে বাইরে থাকতে হলে সিটি করপোরেশনে অচলাবস্থা দেখা দেবে।
জানা গেছে, বিএনপিসহ বিরোধী জোটের টানা অবরোধের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মতিহার থানার কাপাশিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারার মধ্যে ঢাকাগামী গাড়িবহরে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় মেয়রকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর আগের দিন দুপুরে নগরের কাদিরগঞ্জ ট্রাকের বহরে হামলা ও ১৯ জানুয়ারি গভীররাতে ভদ্রা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রল বোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায়ও মেয়রকে আসামি করা হয়েছে। এরপর থেকেই মেয়র পলাতক রয়েছে।
বর্তমানে মেয়রের নামে ১৬টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় মেয়র এক মাস হাজতও খেটেছেন।