রংপুর প্রতিনিধি : সরকারের নাশকতার ষড়যন্ত্র, বিএনপি জোটের ১০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারাদেশে ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের শেষ দিন রংপুরে অনেকটাই নিরুত্তাপভাবে পালিত হচ্ছে। অবরোধের সঙ্গে হরতালের কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে থেমে ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান। নাশকতার আশঙ্কায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীসহ ৫৯ জনকে।
রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, হরতালের শেষ দিন সোমবার ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর কোথাও হরতালের সমর্থনে বা বিপক্ষে কোনো পিকেটিং ও মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে ওষুধ ও খাবারের দোকানপাট খুলতে শুরু হলেও বন্ধ রয়েছে বড় বড় বিপণী বিতান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে রোববারের তুলনায় নগরীতে হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল বেড়েছে। শিডিউল বিলম্ব হলেও স্বাভাবিক রয়েছে ট্রেন চলাচল।
গত দু’দিনে রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বাসায় পুলিশি অভিযানে কারণে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিতি কমে গেছে নেতাকমীদের। অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে গোপন স্থানে অবস্থান করছেন।
মহানগর বিএনপির একটি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে ধাপ বেতারপাড়া এলাকায় ধানবোঝাই ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনার পুলিশ বাদী হয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামুকে প্রধান আসামি করে বিএনপি-জামায়াতের ৪২ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলার পর গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে বিভিন্ন নেতার বাসায় হানা দেয় পুলিশ। এরপর থেকে নেতারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে গোপনে রয়েছেন।
তবে চলমান অবরোধ ও থেমে থেমে ডাকা হরতালে প্রথম কয়েকদিন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মাঠে সরব দেখা গেলেও বর্তমানে তাদের কাউকেই মাঠে পাওয়া যাচ্ছে। মামলা আর গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তারা।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া নগরী ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে র্যা ব ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিএনপির ১০ এবং জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যানবাহনে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সেবন, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, রাহাজানি এবং হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

