আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া খবরের কারণে ল্যাটিন আমেরিকায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সুনামি সতর্কতা থেকে শুরু করে অলৌকিক রোগমুক্তির মতো ভুয়া সংবাদগুলোর কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। রোববার দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়, দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে কফিনের ভেতরে পাথর ভরে সেই কফিন দাফন করা হচ্ছে। মেক্সিকোতে প্রচার করা হয়, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ানো হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আর্জেন্টিনায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে ভুয়া খবর প্রচার করে সে দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
গুজব বা ভুয়া খবরের দৌঁড় এখানেই শেষ হয়নি। পেরুতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা সামুদ্রিক খাবার নিরাপদ নয়। কারণ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দেহ সাগরের ওই অংশে ফেলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরস আধানমকে নাকি সাও পালো উপকূলের একটি বারে মদ পান করতে ও নাচতে দেখা গেছে।
এতো গেলো ভাইরাস ছড়ানোর গুজব বা ভুয়া খবরের গল্প। এই দেশগুলোতে করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার অলৌকিক ওষুধের ভুয়া খবরও ভাইরাসে সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এই ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে, পেরু সাগরের পানি, ভেনেজুয়েলার লেমনগ্রাস ও এল্ডারবেরি চা এবং ব্রাজিলের টেলিভিশনে ধর্ম প্রচার অনুষ্ঠানের এক যাজকের পাওয়া অতিপ্রাকৃত বীজ।
পেরুর একটি সংবাদপত্রের কলাম লেখক জর্জ ব্রুস বলেন, ‘সমস্যাটা হচ্ছে, এগুলো পারিবারিক হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে সুচিন্তিত মানুষরা ছড়াচ্ছেন। কারণ তারা নিয়ন্ত্রণহীন একটি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন।’

