অর্থনীতি ডেস্ক : বহুদিন থেকেই রুগ্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে আর্থিক খাতে। অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ঋণ খেলাপি বেড়েছে অনেকগুণ। এ কারণে বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সাল শেষে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমে কোনো প্রকার ব্যয় করেনি দেশের ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকসমূহের মধ্যে জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯ ষান্মাসিকে ৬টি ব্যাংক (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক) কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় সিএসআর খাতে কোনরূপ ব্যয় করেনি।
অপরদিকে, এ ষান্মাসিকে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ব্যাংক আল ফালাহ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল যৎসামান্য।
বাংলাদেশে কার্যরত ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯ ষান্মাসিকে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠান কোন ব্যয় করেনি। জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯ ষান্মাসিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক সিএসআর খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
আলোচ্য সময়ে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিএসআর খাতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি সেগুলো হলো- অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফাইন্যান্স ফান্ড, বে লিজিং এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, সিভিসি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্সিং, প্রিমিয়ার লিজিং এন্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।
২০১৯ সালের শেষ ছয় মাসে ব্যাংক গুলো সিএসআর খাতে ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ১৭০ কোটি টাকা বেশি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খাতটির ছিল ২৩৯ কোটি টাকা।
উল্লেখ, গত ১৭ জুন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির ব্যয়ের ৬০ শতাংশই স্বাস্থ্য খাতে করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে চিকিৎসা উপকরণ ও সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের যে সীমা রয়েছে তা নিশ্চিত করতেও বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্যে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যে সিএসআর কর্মকাণ্ডের আওতায় স্বাস্থ্য খাতে নিয়মিত কার্যক্রম কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা উপকরণ যেমন পিসিআর, ভেন্টিলেটর মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ সবার স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে হবে। এ সহযোগিতার আওতা জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের জনস্বাস্থ্যে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় সিএসআর ব্যয় বণ্টনে স্বাস্থ্য খাতে ৬০ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ এবং জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল খাতে ১০ শতাংশ ব্যয় করার নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বিবেচনায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ব্যয়ের পরিমাণ এবং যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম্যাটে এ সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য পাঠানোর কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

