আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লাদাখে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় সোমবার মুখ খুললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সংঘাতের পর শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি মন্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করে। এনিয়ে এক বিবৃতিতে মনমোহন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘সবসময় তিনি কী বলছেন সেই সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে’।
আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য কর্নেল বি সন্তোষ বাবুসহ যে জওয়ানরা জীবন দিয়েছেন তারা যেন ন্যায়বিচার পান, তা প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে বললেন মনমোহন। তা না হলে জনগণের বিশ্বাসের প্রতি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
১৫ জুন লাদাখের সংঘাতে ভারতীয় সেনাদের প্রাণহানির পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মনমোহন আরও বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ঐতিহাসিক মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সম্পর্কে কী উপলব্ধি করবে তা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপেই ঠিক করে দেবে। যারা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরই এই একান্তত দায়িত্বের ভার গ্রহণ করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রে এই দায়িত্ব বর্তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপর। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তিনি কী বলছেন এবং কৌশলগত ও আঞ্চলিক স্বার্থ বিবেচনায় জাতির সুরক্ষায় কী ঘোষণা দিচ্ছেন তা সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হবে।’
শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, ‘ভারতীয় সীমান্ত কেউ (চীনা সেনারা) অতিক্রম করেনি এবং কোনও পোস্ট দখল করতে পারেনি।’ প্রধামন্ত্রীর এই বিবৃতি বিশ্লেষণ করে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইটে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী কি তাহলে ভারতীয় ভূখণ্ডকে চীনের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন? পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাল্টা জবাবে বলেছে, মোদির বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মনমোহন বলেছেন, এপ্রিল থেকে নির্লজ্জ ও অবৈধভাবে একাধিক আগ্রাসনে গালওয়ান উপত্যকা ও পানগং তসো হ্রদের মতো ভারতীয় ভূখণ্ডের কিছু অংশ নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। সংঘাতের পর হুমকি-ধামকিও দিয়েছে চীন। এতে যেন ভারত পিছিয়ে না আসে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বললেন মনমোহন, ‘আমরা তাদের এই হুমকি ও ভয় দেখানোয় বিচলিত হতে পারি না কিংবা আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপোষের অনুমতি দিতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করতে হবে এবং এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের সমস্ত দফতর যে একসঙ্গে কাজ করবে তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সমস্যা যেন আর প্রকট না হয়ে ওঠে সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে।’

