ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : করোনাভাইরাসকে হারিয়ে দুই পরিবারের সাত যোদ্ধা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ছাড়পত্র দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদেরকে বাড়ি পাঠানো হয়।
এর আগে দুই দফায় এই আইসোলেশন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা আরো পাঁচ জনকে বাড়ি পাঠানো হয়। এনিয়ে জেলার করোনার আইসোলেশন থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।
বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়ে যারা ফিরেছেন তারা হলেন- নাসিরনগর উপজেলায় মারা যাওয়ার পর করোনা সনাক্ত হওয়া ওই মালেশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী (২২), তার আড়াই বছরের মেয়ে, দেবর (৩৪) ও আরেক দেবর (১৯)।
বাকিরা- হলেন আখাউড়া উপজেলার চরনারায়নপুর গ্রামের বাছির মিয়া (৫৫), তার এক মেয়ে (২০) ও এক ছেলের বউ (২০)।
জেলার করোনার আইসোলেশন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের মকবুলপুর গ্রামের এক মালেশিয়া প্রবাসী মারা যান। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পর্যায়ক্রমে ওই মালেশিয়া প্রবাসীর সংস্পর্শে আসা স্ত্রী, সন্তানসহ বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া মালেশিয়া প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে ১২ এপ্রিল সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রতিবেদন আসে।
১৪ এপ্রিল মালেশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী, ১৭ এপ্রিল তার আড়াই বছরের মেয়ে শিশু সন্তান ও দুই ভাইয়ের করোনার ফল পজেটিভ আসে। পরে তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়।
এদিকে আখাউড়ার চরনারায়নপুর গ্রামের বাছির মিয়ার এক মেয়ে ঢাকা থেকে আসার পর পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা থেকে আসা মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনার নমুনার ফল নেগেটিভ আসলেও বাছির, তার মেয়ে ও ছেলের বউয়ের করোনার ফল পজেটিভ আসে।
পরে ১৫ এপ্রিল বাছির ও তার মেয়ে ও ১৭ এপ্রিল ছেলের বউকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৯ জনের করোনা সনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে মৃত রয়েছেন দুইজন।
বতর্মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে নয় জনসহ মোট ২১ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় তিন জন চিকিৎসক, তিন জন স্বাস্থ্য কর্মী ও একজন ওটি সহকারীর করোনা সনাক্ত হয়েছে।
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, সাত জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে মোট ১২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

