ঢাকাThursday , 30 April 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনায় বদলে যাচ্ছে প্রতিবেশীর আচরণ

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : করোনার প্রকোপে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বদলে যাচ্ছে সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক আচরণও। পাশাপাশি প্রতিবেশীর আচরণও বদলে যাচ্ছে মনে করছেন সাধারণ নাগরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চান। ফলে ‘সামাজিক দূরত্ব’ রক্ষা করতে গিয়ে মানুষে-মানুষে মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে। আতঙ্ক-সংশয়ে বিপন্ন প্রতিবেশীরও খোঁজ কেউ নিচ্ছেন না। প্রতিবেশীর প্রতি এই মানসিক পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব শিশুদের ওপর পড়বে বলেও মনে করছেন চিকিৎসক-মানসিক স্বাস্থ্যবিদরা।
প্রতিবেশীর চরণের পরিবর্তনের কথা জানালে জানালেন রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা। তাদেরই একজন নার্গিস আক্তার। দুই সন্তান ও চাকরিজীবী স্বামীসহ থাকেন রাজধানীর আদাবর এলাকায়।
নার্গিস আক্তার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে আমার স্বামী হার্ট অ্যাটাক করলে তাকে হাসপাতালে নিতে ‍খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুই ছেলের বয়স নিতান্ত কম হওয়ায় পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সহযোগিতা নিতে যাই। কিন্তু তারা কোনোভাবেই সহযোগিতা করতে রাজি হননি।’
ধানমন্ডিতে থাকে চিকিৎসক আসিফ হাসান। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘করোনার প্রকোপ শুরুর পর আমদের দুজনকেই লম্বা ডিউটি করতে হচ্ছে। ফলে সন্তানরা বাসায় থাকছে। তাদের দেখাশোনার জন্য যে কাজের লোক ছিল, সেও বাড়ি চলে গেছে। বিপদে-আপদে প্রতিবেশীদের কারও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’
শান্তিনগরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে দুপুরেও কাউকে বিশেষ প্রয়োজনে নক করলেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কারও সামান্য সর্দিকাশি হলেই তার দিকে অন্যরা সন্দেহের চোখে তাকায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই ভবনে থাকি, অথচ দেখা হলে অনেকেই এমন ভান করেন, যেন চেনেনই না।’
প্রতিবেশীর এমন পরিবর্তনকে কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ বলে মন্তব্য করলেন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজরানা ইয়াসমিন হীরা। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে পুরো পৃথিবী বদলে গেছে। এখন সমাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকের সংখ্যা বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা কমে যাচ্ছে।’
নাজরানা ইসমিন হীরা বলেন, ‘এখন একসঙ্গে থাকার যে পারিবারিক শিক্ষা, তাও নেই। কিভাবে পরিবার, সমাজের সঙ্গে শিশু-কিশোররা মিশবে এবং দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে কোনো ওরিয়েন্টেশন নেই।’
মানুষের আচরণ পরিবর্তনের জন্য আত্মকেন্দ্রিকতাকে দায়ী করলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। তিনি বলেন, ‘একটা অ্যাপার্টমেন্টে ২০টা ফ্ল্যাট থাকলেও কেউ কারও সঙ্গে পরিচিত হয় না। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কেউ কারও বিপদে এগিয়ে আসে না। আমরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। আমাদের মানবিক মূল্যবোধ কমে যাচ্ছে।’
মোহিত কামাল আরও বলেন, ‘যারা করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের প্রতি সহমর্মী হতে হবে। সহমর্মী মানে, আক্রান্ত ব্যক্তি যেভাবে তার কষ্ট, ভয়, আতঙ্ক অনুভব করে, ঠিক সেভাবে প্রতিবেশী ও স্বজনদের অনুভব করতে হবে।’ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।