ঢাকাWednesday , 1 January 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবার প্রতি ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়!

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : বেন স্টোকস ক্রিকেটবিশ্বে গত বছরের সবচেয়ে আলোচিত নায়কের নাম। লর্ডসের বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলেছেন। ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপার স্বাদ দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে।
নিজেকে প্রমাণের জন্য ওইটুকই যথেষ্ট ছিল স্টোকসের। কিন্তু ধ্বংসাত্মক সুন্দরের পূজারী স্টোকস অমর হতে চাইলেন। আর তাই অ্যাশেজের হেডিংলি টেস্টে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন আরেকবার। ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে এনে দিলেন অবিশ্বাস্য এক জয়।
শুধু এ পরিসংখ্যানে প্রকাশ পায় না স্টোকস বীরত্ব। কিন্তু যখন দেখা যায়, শেষ উইকেটে ৭৬ রানের জুটিতে সতীর্থ জ্যাক লিচের অবদান মাত্র ১। তখন স্টোকসকে কুর্নিশ করা ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসার কথা নয়।
এত সব অর্জন সত্ত্বেও স্টোকস বছর শেষে ২০১৯ সালের যোগফল মেলাতে পারছেন না!
দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা দেখতে গিয়ে ক্রিসমাসের (বড়দিন) আগের দিন স্টোকসের বাবা জেড স্টোকস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, নিতে হয় হাসপাতালে। বাবার এই অসুস্থতা বদলে দিয়েছে ‘বিগ বেনের’ দৃষ্টিভঙ্গিও।
২০১৯ সাল নিয়ে ২৮ বছর বয়সি স্টোকস বলেন, ‘২০১৯ সাল আমার জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় বছর। অথচ বছর শেষে ২০১৯ সালের যোগফল মেলাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমার। এই বছর আমার অবিশ্বাস্য কিছু অর্জন ছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থতা, হাসপাতালে চলে যাওয়া। আমার সব অর্জন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।’
বাবার অসুস্থতায় কাতর স্টোকস বড়দিন কাটিয়েছেন হাসপাতালে। জেড স্টোকসের শারীরিক অবস্থা উন্নতি ঘটায় পরদিন বক্সিং-ডে টেস্টে খেলতে নেমেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। স্টোকসের মতে, যদি ২০১৯ সালের সব অর্জনের বিনিময়ে তার বাবা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়, তাহলে সবকিছু বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করবেন না তিনি।
‘আমাকে যদি কেউ বলত, গত গ্রীষ্মে যা অর্জন করেছো, সবকিছু তোমার থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। বিনিময় তোমার বাবা সুস্থ এবং খুশি থাকবে। আর তোমাকে আবার ক্রিকেট মাঠে খেলতে দেখতে যাবে। তাহলে আমি নির্দ্বিধায় সব অদলবদল করতাম’- বলেন স্টোকস।
স্টোকসের জন্য আশার বিষয় হচ্ছে, জেড স্টোকস এখন ভালো আছেন। শারীরিক বাজে অবস্থা কাটিয়ে উঠেছেন। আর এজন্য স্টোকস কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন ডিরেক্টর গ্রায়েম স্মিথ আর কোচ মার্ক বাউচারকে।
স্টোকসের ভাষায়, ‘শুরুতে বাবা যে অবস্থায় ছিল, আর এখন যে অবস্থায় আছে; এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য ছিল। তবে তাকে আরও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাবা যে যত্ন পেয়েছে। তার জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গ্রায়েম স্মিথ ও মার্ক বাউচারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। ইংল্যান্ড দলের ফিজিও ক্রেইগ ডি ওয়েমার্ন প্রাথমিক অবস্থায় অনেক কষ্ট করেছে। জোহানেসবার্গে বাবার প্রথম চিকিৎসক গ্যাভিন আর হাসাপাতালের সাপোর্ট স্টাফ; সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
বাবা জেড স্টোকসকে নিয়ে নতুন বছর দুর্দান্ত কাটুক ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক স্টোকসের। আর আপন মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠুক স্টোকসের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার। ক্রিকেটভক্তদের প্রত্যাশা তো এমনটাই।