বিনোদন ডেস্ক : দেবতারা সিচুয়ান শহরে এসে এক পানি-বিক্রেতার কাছে রাত্রিযাপনের জন্য জায়গা চায়। কিন্তু সিচুয়ান শহরের চারদিকের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এতটা খারাপ যে, কোনো বাড়িতেই তারা আশ্রয় পায় না। পানি-বিক্রেতা সেই শহরে সেন্টে নামে এক বারবনিতার কথা বলে পালিয়ে যায়। সেন্টে অকাতরে মানুষকে সাহায্য করে। এই বারবনিতার ঘরেই তিন দেবতা আশ্রয় পায়। দেবতারা যাওয়ার সময় তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়। এই টাকা দিয়ে একটি দোকান কিনে ভালোভাবে বাঁচতে চায় সেন্টে। দোকান কেনার কিছুক্ষণ পরই জানতে পারে, দোকান বিক্রেতা তার কাছ থেকে টাকা নিলেও দোকানের আসবাবপত্র আরেকজনের কাছ থেকে বাকিতে কেনা ছিল। ফলে পাওনাদার এসে জবরদস্তি শুরু করে। অবশেষে টাকা দেবে বলে সেন্টে রাজি হয়। ধীরে ধীরে দোকানে অনেক মানুষই নানা কৌশলে আশ্রয় নেয় এবং সবাই তাকে দেউলিয়া করার উপক্রম করে।
সেন্টের কাছ থেকে যখন সবাই সুযোগ ভোগ করে, তখন উপায়ান্তর না দেখে অসহায় সেন্টে তার এক অভিভাবক আছে বলে জানায়। চারদিকের সুযোগসন্ধানীরা সারাক্ষণ সেন্টের পেছনে ঘুরতে থাকে। একদিন সেন্টে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আদালতে দাঁড়াতে হয় তার অভিভাবককে। সেন্টেকে লুকানোর অভিযোগে যখন অভিভাবক শাস্তি পাচ্ছিল, তখন সত্যিকার চেহারায় হাজির হয় সেন্টে। আসলে এই অভিভাবক অন্য কেউ নয়, সেন্টে নিজেই। সিচুয়ানের চারদিকের জঘন্য পরিবেশে নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিল দ্বৈত চরিত্র। এভাবেই এগিয়েছে ‘সিচুয়ানের সুকন্যা’ নাটকের কাহিনি।
জার্মান কবি, নাট্যকার বার্টল্ড ব্রেখটের ‘দ্য গুড ওমেন অব সিচুয়ান’ নাটকের অনুবাদ করেছেন মামুন হক। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সম্রাট প্রামাণিক। এই নাটকের মধ্য দিয়ে ঢাকার মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করে নতুন নাটকের দল থিয়েট্রোন ঢাকা ডট বিডি। গত ৩০ জুলাই নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। এদিকে আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে ‘সিচুয়ানের সুকন্যা’ নাটকটি।
এ নাটক প্রসঙ্গে অনুবাদক মামুন হক বলেন, ‘১৯৯৩ সালে প্রথম জার্মানিতে এই নাটক দেখার সুযোগ হয়। তখন থেকেই আমার মাতৃভাষায় নাটকটি দেখার এবং মঞ্চায়ন করার খুব ইচ্ছা হয়। তারই পরিবেশনা এই নাটক। ব্রেখট প্রাচীন গ্রিসের দেবতাদের মাউন্ট অলিম্পাস থেকে জনস্রোতে নামিয়ে নিয়ে আসেন। নাটকের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। এই নাটকেও তার রেশ রয়েছে।’
এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—জিনিয়া আজাদ, কৌশিক বিশ্বাস, সাদমান সাঈদ, বাপ্পি আমিন, তন্ময় বিশ্বাস, বাপ্পা রায়, শরীফুল ইসলাম, পার্থ সরকার, মাহমুদ শাকিল, ইবনে সাকিব, ফজলে রাব্বী, সায়লা পারভীন প্রিয়া, সাবরিন সুলতানা, শিউলী ইসলাম, আবুল ফজল, শেখ শামীম, নূর-ই-আলম সুমন। সেট ডিজাইন করেছেন নুর হোসেন, লাইট ডিজাইন সাওগাতুল ইসলাম হিমেল, কস্টিউম শ্রেয়শ্রী সরকার, প্রপস এসএম সাইফুল হাসান, সংগীত আহসান হাবীব বিপু।

