বিনোদন ডেস্ক : দেশ নাটকের আলোচিত প্রযোজনা ‘নিত্যপুরাণ’। বিজয়ের মাসে দেশের তিন শহরে নাটকটির তিন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
আগামীকাল শুক্রবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে, ২৫ ডিসেম্বর নগরীর শিল্পকলা একাডেমি ও ২৭ ডিসেম্বর পাবনার বনমালী থিয়েটারে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। দেশ নাটকের ১৫তম এ প্রযোজনা রচনা করেছেন মাসুম রেজা। এটি একটি নাট্যকার নির্দেশিত নাটক।
নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা বলেন, ‘মহাভারত পাঠকালে একলব্যকে আমার খুব কাছের মানুষ বলে মনে হয়েছে, মনে হয়েছে এ যেন আমি, এ যেন আমরা, সাধারণ মানুষ। একলব্যকে আমার দেখতে ইচ্ছে হয়েছে অন্যভাবে, পাণ্ডব কিংবা কৌরবদের চেয়েও কুশলী বীররূপে। নাটকটি লিখতে গিয়ে যে বিষয়টির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি তা হলো এই নাটকটিকে আমি সময়-নিরপেক্ষ নাটক হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছি, অর্থাৎ আমি একই সঙ্গে চেয়েছি মহাভারতের ভেতর থাকতে আবার এখনকার কথাও বলতে।’
২০০১ সালে ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়। ২০০৩ সালে ৮৬তম মঞ্চায়নের পর নাটকটির প্রদর্শনী স্থগিত হয়ে যায়। এরপর কেটে যায় প্রায় ১৪ বছর। সেই দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি পুনরায় মঞ্চস্থ হয়।
চরিত্রগুলোতে বেশিরভাগ নতুন মুখ নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছে দলটি। নাটকটির প্রধান চরিত্র ‘একলব্য’ রূপায়ন করতেন প্রয়াত দিলীপ চক্রবর্তী। মূলত তার অনুপস্থিতির কারণেই নাটকটি মঞ্চায়ন স্থগিত ছিল বলে জানান নির্দেশক মাসুম রেজা। এখন ‘একবল্য’ চরিত্রে অভিনয় করছেন মামুন চৌধুরী রিপন।
এর আগে নাটকটিতে ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রে একাধিকজন অভিনয় করেছেন। তবে সর্বশেষ এ চরিত্রে অভিনয় করেন বন্যা মির্জা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “নাটকটির প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার আগের দুই বছর আমি ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রটি রূপায়ন করেছি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারো এই চরিত্রটি নিয়ে মঞ্চে উঠি এবং এখনো নিয়মিত করে যাচ্ছি।’ এবারো ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন বন্যা মির্জা।
এ ছাড়া নাটকটির ব্যাসদেব চরিত্রে আসিফ হাসান, যুধিষ্ঠিরের চরিত্রে কামাল আহমেদ, ভীমসেন চরিত্রে ফিরোজ আলম, অর্জুনের চরিত্রে লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, নকুল চরিত্রে হোসাইন নিরব, সহদেবের চরিত্রে মাইনুল হাসান মাঈন, দ্রোণাচার্যের চরিত্রে সমাপন সরকার। অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে সুষ্মিতা সাহা, জলি চৌধুরী, তামিমা তিথি, মেঘলা মায়া, ইসমেত্ জেরিন, কাজী লায়লা বিলকিস, সানজিদা লতা, সালমান লিমন ও আবিদুর রহমান আদরকে।
নাটকটির সেট পরিকল্পনা করেছেন কামাল উদ্দিন কবির, পোশাক পরিকল্পনায় শাহনেওয়াজ কাকলী, সংগীত পরিকল্পনায় নাসিরউদ্দিন শেখ, আবহসংগীতে ইমামুর রশিদ খান ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন নাসিরুল হক খোকন। রূপসজ্জা পরিকল্পনা করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনায় মো. আমানুল্লাহ আমান ও হিমা রয় মিতু দায়িত্ব পালন করেছেন। নাটকে ব্যবহৃত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, অসীম কুমার নট্ট, ইমামুর রশিদ খান, নন্দিতা বিশ্বাস, আমরিন তাসনিম জাইমা ও জারিফা তাসনিম জেমিমা। নাটকের সহকারী নির্দেশকের দায়িত্ব পালন করছেন অয়ন চৌধুরী।

