হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের প্রকৃতিতে আলাদা দ্যুতি ছড়াচ্ছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই চন্ডিছড়া চা-বাগান। প্রায় ৭৯৩ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে গড়ে ওঠা চা বাগানটি দর্শনে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।
বাগানটির সামনে আমু লস্করপুর আর পিছনে রয়েছে বেগমখান চা-বাগান। দুইপাশে তার চাঁন্দপুর ও চাকলাপুঞ্জি। চারপাশে বাগান থাকায় চন্ডিছড়ার চিরহরিৎ রূপ সহজেই মন কেড়ে নিচ্ছে আগন্তুকের।
প্রতি বছরের মতো চন্ডিছড়ার চা-বাগানে এ মৌসুমে চায়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর সবই সম্ভব হয়েছে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর সমন্বয়ের কারণে।
শ্রমিকদের পদচারণায় মুখরিত চন্ডিছড়ায় পাখপাখালীও আরেকটি আকর্ষণ। এখানে প্রায় নয়শ শ্রমিক চা-পাতা উৎপাদনের কাজে জড়িত। বাগান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকরা শান্তিতে বসবাস করছেন। শ্রমিকরাও বাগানের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করে মনের আনন্দে উৎপাদন কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।
নিয়মানুযায়ী বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চা-পাতা উৎপাদন শুরু হয়ে চলে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাই এখনও পুরোদমে নারী শ্রমিকরা গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করছেন। তাদের সাথে পুরুষ শ্রমিকরা নানাভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।
পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, চন্ডিছড়া বাগানকে আরও চিরহরিৎ করতে নতুন করে ছায়াবৃক্ষ লাগানো হয়েছে। চায়ের গাছে গাছে নতুন কুঁড়ি ছাড়ছে। নিয়ম মেনে শ্রমিকরা এগুলো সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন।
এ বছরে চন্ডিছড়ায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কেজির। শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের গভীর সমন্বয় থাকায় বাগানটিতে এ মৌসুমে চায়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই বাকী সময়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিদর্শনকালে বাগানের বাসিন্দাদের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয়। তারা বাগানের ম্যানেজারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারা জানালেন, চন্ডিছড়া চা বাগানের ভাল ফলনের কারণও তিনি। অফিস স্টাফ এবং শ্রমিকরাও তার কথায় মুগ্ধ হয়ে কাজে আরও মনোযোগী হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের পাহাড় বেষ্টিত চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় ন্যাশনাল টি কোম্পানির ৪টি চা বাগান রয়েছে। বাগানগুলো হল তেলিয়াপাড়া, জগদীশপুর, পারকুল ও চন্ডিছড়া। বাগানগুলো চা-পাতা উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভাল ভূমিকা রাখছে।

