ঢাকাWednesday , 16 October 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়
প্রধান সহকারী ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

Link Copied!

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী ও রাজবাড়ী জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের প্রাক্তন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত কমল কান্তি ধর ও তার স্ত্রী রাজবাড়ী জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত সুতপা রায় তপুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৭ বছর একই কর্মস্থলে থেকে কমল ও সুতপা দম্পতি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর শহরে ১০টি ফ্ল্যাট ও ২টি দোকানের মালিক হয়েছেন। তবে নিজের দুর্নীতি ঢাকতে কমল কান্তি ধর ৬টি ফ্ল্যাট ও দোকান তার স্ত্রীর ভাই অনুপম রায়ের নামে রেজিস্ট্রি করিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একজন নকলনবীশকে অস্থায়ীভাবে যোগদানের ১০-১৫ বছর পর মোহরার পদে চাকরি স্থায়ী করতে ২০ লাখ টাকা কমলের মাধ্যমে আইজিআর অফিসকে দিতে হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সেখান থেকেও কমল কান্তি ধর মোটা অংকের কমিশন পান বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রাক্তন অফিস সহকারী গুরুদাস হালদার ও গোয়ালন্দ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত মোহরার ওয়াসীমা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মাসিক মাসোহারা, বদলির তদবির ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বনে গেছেন কোটিপতি, করছেন বিলাসী জীবনযাপনও। বছরে দু’বার পরিবার-পরিজন নিয়ে ভারতেও ভ্রমণ করতে যান কমল ও সুতপা দম্পতি। রাজবাড়ীর বিনোদপুরের মেয়ে সুতপা রায় কমলের সেই কোমল হাতের স্পর্শে জীবন যুদ্ধে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে কমলের হাত ধরে তার ঝুলিতে ধরা দেয় সফলতা। নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিদর্শক নিবন্ধন নৃপেন বাবুর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে কমল কান্তি ধর তার স্ত্রী সুতপা রায় তপুকে চাকরিতে দেওয়া হয়। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
ফরিদপুর এ্যাবলোম রেস্টুরেন্ট এর মালিক জানান, জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী কমল কান্তি ধর তার কাছ থেকে ৪টি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান কিনেছেন। ৯৩০ স্কয়ার ফিটের ৪টি ফ্ল্যাট ও ১টি দোকান প্রায় কোটি টাকায় তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
রাজবাড়ী নকলনবীশ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, জেলা রেজিস্ট্রারের প্রাক্তন প্রধান সহকারীর ক্ষমতার দাপটে তার স্ত্রী একই কর্মস্থলে ৬ বছর ধরে রয়েছেন ও বিভিন্ন উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মাসিক মাসোহারা নিচ্ছেন ঊর্ধ্বতন অফিসারের ভয় দেখিয়ে হয়রানির ভয়ে কেউ তার এই অনৈতিক কর্মকা-ের প্রতিবাদও করেন না। নামে-বেনামে শহরে রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট। রাজবাড়ীর দুই নম্বর বেড়া ডাঙ্গায় পঞ্চম তলা বিশিষ্ট একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে এই দম্পতির, ফরিদপুর ওপার বাজার সংলগ্ন ১১ তলায় একটি এবং নিচতলায় রয়েছে একটি দোকান। রাজবাড়ীর বিনোদপুরের শ্বশুরালয়ে রয়েছে আরও একটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট। নিজের নামে দু’টি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করলেও বাকি ৬টি রেজিস্ট্রি করিয়েছেন তার স্ত্রীর ভাই অনুপম রয়ের নামে।
ফরিদপুর নকলনবীশ এসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, দৈনিক তাদের অফিসে ৬০-৭০ জন লোক নকল তোলার আবেদন করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে নকল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নেওয়া হয় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। অতিরিক্ত টাকা প্রতিদিন রেকর্ড কিপারের মাধ্যমে কমলের পকেটে যায়। এছাড়াও কমল কান্তি ধরকে মাসিক সেলামি দিয়ে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ষাটোর্ধ্ব ১০-১৫ নকলনবীশ নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি ১০ হাজার ২০০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরি করে কীভাবে ১০টি ফ্ল্যাট ও দোকানের মালিক হন সেটি বোধগম্য নয় বলে জানিয়েছেন জেলা জন-উদ্যোগের আহ্বায়ক ও ফরিদপুর জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা ইয়াসমিন। দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তার অনৈতিক কাজে সহযোগিদেরও বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে কমল কান্তি ধর জানান, মানুষ ৬ বছর সরকারি চাকরি করলে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়। তিনি মাত্র দু’টি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন, বেশি কিছু করেননি। বাকি ফ্ল্যাটগুলো তার পরিবারের সদস্যদের কেনা।
রাজবাড়ীর জেলা রেজিস্ট্রার গোলাম মাহবুব জানান, তিনি আসার আগে রেজিস্ট্রি অফিসে কী হয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে এখন রেজিস্ট্রি অফিসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখানে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।