ঢাকাTuesday , 24 September 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিয়ানমারের অপতৎপরতা রুখতে প্রস্তুত বিজিবি

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 24, 2019 11:25 pm
Link Copied!

কক্সবাজার প্রতিনিধি : প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অপতৎপরতা মোকাবেলায় বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি। ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি টহল ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সেন্টমার্টিন পরিদর্শনকালে বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল সাফিনুর ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার বাহিনীর সদস্যরা সক্ষম। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি বিষয়টাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’
দেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ সেন্টমার্টিন নিয়ে কিছুদিন ধরে নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে অন্তভূক্ত করেছে তারা। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় ছয় মাস আগে সেখানে বিজিবির একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি। ক‌্যাম্পটিকে স্থায়ী করতে দ্বীপটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে আসেন বিজিবি প্রধান। দ্বীপের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুর ইসলাম।
সেন্টমার্টিনকে মিয়ানমারের অংশ দাবি করা নিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘মিয়ানমার হয়তো অজ্ঞাতবশত এটি বলছে। আন্তর্জাতিক সীমানারেখা অনুযায়ী সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের। সীমান্তের সুরক্ষায় বিজিবি সেন্টমার্টিনে টহল জোরদার করবে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তে সড়ক তৈরির কাজ চলছে। সীমান্ত দিয়ে কোনো রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেয়া হবে না। বিজিবির তৎপরতায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকটা কমে এসেছে।’
মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা ইয়াবা ব্যবসায় সঙ্গে জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক জানান, মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা ভাসছে। এতে বোঝা যায় সে দেশের সীমান্তরক্ষীরা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। তারাও চেষ্টা করছে সেদেশে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতে।
এদিকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে কিছুটা আতঙ্কিত ছিল সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। তবে বিজিবি’র অবস্থান এবং টহল জোরদার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের মাঝে।
দ্বীপের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনকে যখন মিয়ানমার তাদের দাবি করে, তখন দ্বীপবাসীর মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মিয়ানমারের দাবি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সেন্টমার্টিন হচ্ছে বাংলাদেশের।’
স্থানীয় বাসিন্দা শফিক উল্লাহ বলেন, ‘সেন্টমার্টিন পুরোদ্বীপটিকে বিজিবি নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করেছে তারা। এ কারণে আমাদের স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আমরা সবসময় নিজেদের নিরাপদ মনে করি।’
মূলত টেকনাফ থেকে বোট কিংবা জাহাজে করেই সেন্টমার্টিন আসতে হয়। আগে থেকেই এখানে নৌ বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের অবস্থান রয়েছে। সবশেষ পর্যায়ে বিজিবি’র অবস্থানকে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ জানান, আগে প্রতিনিয়ত সাগরে মিয়ানমারের নৌ বাহিনীর জাহাজ আসত এবং বাংলাদেশের সীমানার খুব কাছাকাছি টহল দিত। এখন বিজিবি আসার পর থেকে মিয়ানমারের নৌ বাহিনী সাগরে অনেক দূরে তাদের নিজেদের জল সীমানায় টহল দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি আর তাদের দেখা যায় না। এখন দ্বীপবাসী নিরাপদে আছে।’
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তগত সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থানীয়ভাবে ১০ হাজার লোকের বসবাস। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত দ্বীপটি। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন।