ঢাকাSunday , 8 September 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্য

Link Copied!

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ, বি.সি রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজুলের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে পর্চা নেয়ার জন্য পৌনে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দিল দিলীপ সিং। এ নিয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও কুমিল্লা দেবিদ্বারের মফিজ। আর প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা হন্যে হয়ে খুঁজছে মফিজকে। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলার ১২টি মৌজার সাধারণ লোকজন। এদিকে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে ১২টি মৌজার দায়িত্বরত উক্ত তিন কর্মকর্তার সাথে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করতে গেলে রাখাল চন্দ্র দাস বলেন, মফিজ চলে গেছে। মফিজের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের বিপরীতে দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকার চন্দনা ব্রিজ সংলগ্ন মদিনা শাহী সুপার মার্কেটের ২য় তলায় রাখাল চন্দ্র দাস ও মফিজ ৫নং রুমটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস একসাথে থেকে দিদার ম্যানশনে অফিস করতেন এবং লোকজনদের বাসায় যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে তারা বাসায় বসে জমি সংক্রান্ত ৩১ ধারার মামলায় পক্ষদের বিভিন্ন কৌশলে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে মফিজ চলে যাওয়ায় বি.সি রাখাল চন্দ্র দাস নিজে বাঁচার জন্য কৌশলে মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা আত্মসাৎ করার জন্য এর কোনো দায়ভার নিজে না নিয়ে কিছু জানি না বলে মফিজের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। মফিজকে দিয়ে ১২টি মৌজার বাদী-বিবাদীদের কাছে মামলার নোটিশ জারি করেছেন এবং ৩১ ধারার মামলার শুনানিকালে এজলাসে বাদী বিবাদীর হাজিরা নিয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট নথিগুলো উপস্থাপন করতেন মফিজুল এবং পাশে বসা থাকতেন রাখাল চন্দ্র দাস। রাখাল চন্দ্র দাস মফিজকে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকাগুলো কালেকশন করাতেন। মৌজাগুলোর কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু মৌজা জমা দেয়া বাকি। বর্তমানে পক্ষদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় এবং পক্ষদের মাঝে পর্চা বুঝিয়ে দেয়ার কথা ঠিক তখনি আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ ও রাখাল চন্দ্র দাস কৌশলে মফিজকে সরিয়ে দেয়। মফিজকে সরিয়ে দেয়ার পরপরই ওই বাসা থেকে সটকে পড়েন রাখাল চন্দ্র দাস। কথায় আছে না, আঙ্গুল দিয়ে খায় না, কাঠি দিয়ে খায়। আর শেয়ানে শেয়ানে ইশারা আর আম্মকরে দেয় ধাক্কা। তাই বি.সি রাখাল চন্দ্র দাস মফিজকে সাথে নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ১২ বছর যাবত একসাথেই সেটেলমেন্ট অফিসে কাজ করেছেন এবং মফিজকে দিয়েই সব কালেকশন করাতেন, রাখাল চন্দ্র দাস থাকতেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘুষ গ্রহণকারীর মূল হোতা বি.সি রাখাল চন্দ্র দাসের খুঁটির জোর কোথায়। সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলায় রাখাল চন্দ্র দাস ও মফিজের এমন নাটকীয় ঘটনাও ঘটেছিল। চুনারুঘাটে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের গোয়েন্দা সংস্থা সেটেলমেন্ট অফিসে প্রবেশের টের পেয়ে বি.সি রাখাল চন্দ্র দাস তার অপকর্মের সহযোগী মফিজকে সরিয়ে দেন। মফিজ সরে যাওয়ার পর তিনি মফিজের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজে কৌশলে বাঁচার জন্য পক্ষদের সাথে টালবাহানা শুরু করেছেন। এতে ৯ মাস যাবত হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদের বাড়ি ফেনী এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত। তিনি মাসে ২/৩ দিন সিলেট অফিসে এসে বসেন এবং তার অফিসের রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ টাকা ও মামলার নথিগুলো নিয়ে তার কাছে হাজির হত। তিনি তাদের কথা বুঝে নথিগুলোতে স্বাক্ষর করেন বলে জানা যায়। রাখাল চন্দ্র দাসের বাড়ি চিটাগাং-এ। মামলা শুনানি ও নোটিশ জারির জন্য চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের অফিস সহায়ক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ নোটিশ জারি করেছেন মফিজুলকে দিয়েই এবং ৩১ ধারার আপিল কোর্ট চলাকালীন শুনানিতে কোর্ট এজলাসে বসতেন মফিজুল। আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ তার রাখাল চন্দ্র দাস থাকা সত্ত্বেও নন-স্টাফ মফিজুল ইসলাম, পিতা মৃত হানিফ কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সে কিভাবে রাখাল চন্দ্র দাসের অনুপস্থিতিতে বি.সির কাজ করত! এবং তার কাছে ১২টি মৌজার মামলার নথি, নোটিশ জারীসহ ভলিয়মগুলো ছিল কোনো দায়িত্বে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অফিস সূত্রে জানা যায়, আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন মাসে ২/১ দিন চুনারুঘাটে অফিস করেন। এদিকে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজে বিবাদী দিলীপ সিং তার বক্তব্যে বলেন, সাতপাইকা মৌজায় ডিপি নং- ৭১৯ খতিয়ানে আমার পর্চা একটাই হবে, আলাদা কোনো পর্চা না। এ অফিসে ৩০ ধারায়ও কাজ করাইছি। এই আপিল ৩১ ধারায়ও আপনারা আমাকে ঠকাইবেন না। এসময় ঘুষ গ্রহণকারী বলেন, ৮টি ডিসপুটের মধ্যে এক বাদী চা শ্রমিকের কাছ থেকে না-দাবিনামা নিয়েছি, পর্চা পেয়ে যাবেন। এদিকে ঘুষ দাতা দিলীপ সিং বলেন, আমার হাতও অনেক লম্বা আছে। আইনের চোখে ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী দুজনই সমান অপরাধী। তাই চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে পর্চা নেয়ার জন্য পৌনে তিন লাখ টাকা ঘুষ দিল উপজেলার সাতপাইকা মৌজার দক্ষিণ কালিশিরী গ্রামের দিলীপ সিং। ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উপজেলার কালিশিরী গ্রামের দিলীপ সিং ডিসপুট মামলায় পর্চা নিতে মফিজকে দুই লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা ঘুষ দেন। পর্চা দেয়ার পর আরও পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করবেন বলেও দিলীপ সিং জানান। মানিক ও দিলীপ সিংয়ের প্রতিপক্ষ ফারুক গংরা মফিজকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানায় ফারুক। অপরদিকে জানা যায়, চুনারুঘাটে মফিজের ভাড়াটিয়া বাসার প্রতিবেশী ফারুক মাহমুদের সাথে নয় মাসের বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ২ দিন পরে দিবে বলে হাওলাদ নিয়ে ঐদিন রাতেই বাসায় মালামাল রেখে মফিজ পালিয়ে যায়। একইভাবে পর্চা দেয়ার কথা বলে উপজেলার পারকুল চা বাগানের চা শ্রমিক কানু শুক্ল বৈদ্যের ২৫ হাজার, মানিক শুক্ল বৈদ্যের ১১ হাজার, গাতাবলার মোশাহিদের ৩০ হাজার, আতিকপুরের দুলাল মিয়ার ২০ হাজার, তরণীর প্রতিপক্ষ জিতেন্দ্র মহাজনের ১ লাখ ৪৫ হাজার, একই গ্রামের মখলিছের ৪৫ হাজার, তৈয়ব আলীর ৩৫ হাজার, সালাম মোল্লার ৩০ হাজার, পারকুল গ্রামের নুর হোসেনের কাছ থেকে ৯৩ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন পক্ষগণের কাছ থেকে বি.সি রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ এভাবে আরো অনেক টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে পাচারগাঁও গ্রামের তরণী দেবনাথের কাছ থেকে পর্চা দেয়ার কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ। কিন্তু তাকে পর্চা দেননি। ঘুষের টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সেটেলমেন্ট অফিস কর্তৃপক্ষ ও ডিসপুটদাতাদের মাঝে চলছে সমালোচনার ঝড় ও তোলপাড়। ঘুষ-বাণিজ্য অভিযোগের বিষয়ে আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ, রাখাল চন্দ্র দাস ও মফিজ পরস্পর যোগসাজশে মফিজকে দিয়ে ঘুষের দর সাব্যস্ত করে কালেকশনসহ যাবতীয় যোগাযোগ রক্ষা করা এবং পক্ষদের পর্চা না দিয়েই প্রতারণা করে মফিজ মানুষের লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপিল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ মোবাইলে জানান, তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না। এর বেশি কোনো কথা না বলেই তিনি ফোন রেখে দেন। এ বিষয়ে চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার অজিত বড়ুয়া জানান, মফিজ আউট সোর্সের মাধ্যমে কাজ করত। নোটিশ জারিসহ বিভিন্ন কাজে সে নিয়োজিত ছিল। সে চলে যাওয়ার পর শুনেছি অনেকের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছে।
মফিজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে বুধবার দুপুরে সরেজমিনে চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় উক্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচিত বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাসও চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিস থেকে সটকে পড়ে সিলেটে তিনি তার বাসায় বসে চুনারুঘাটের ১২টি মৌজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের জনৈক ব্যক্তি জানান। তবে আগত পক্ষ ও ভুক্তভোগীদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন নন-অফিসিয়াল মুন্না ও রানা নামে দুই জনৈক ব্যক্তি। এ বিষয়ে চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ-বাণিজ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল। উল্লেখ্য, প্রমাণচিত্র পৌনে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফোটেজ ও ৩ জনের ছবি সংযুক্ত আছে।