ঢাকাTuesday , 20 August 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাগেরহাট এলজিইডিতে বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

Link Copied!

খুলনা ব্যুরো : সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার পরেও কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অতিমাত্রায় গতি পায় না। মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি রোধে সরকারের জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান থাকার পরেও রহস্যজনক কারণে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র এবং জনগণ। আর অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। এ রকম একজন দুর্নীতিবাজ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নাম মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়া। যিনি বাগেরহাট এলজিইডিতে ৮ বছর ধরে কর্মরত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, বাগেরহাট এলজিইডিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকার সুবাদে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদারগণও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সূত্র জানায়, প্রতিটি বিলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়াকে ধার্যকৃত কমিশন না দিলে স্বাক্ষর করেন না। ঐ সব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের সাংকেতিক ভাষায় কমিশন বাণিজ্যের নাম ‘পিসি’। কমিশনের অর্থ না পেলে খুঁজে বের করেন নানা ত্রুটি। পিসি’র জন্য ঐ ঠিকাদারের উপর অমানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। তখন বাধ্য হয়ে ঠিকাদার দুর্নীতিবাজ (এসও) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়াকে কমিশনের (পিসি) অর্থ পরিশোধ করেন। এরপরই এসও মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়া বিলে স্বাক্ষর করেন। শুধু এসও মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়া একাই এ অনৈতিক কাজটি করেন তা কিন্তু নয়। পুরো দপ্তরের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) থেকে শুরু করে হিসাব রক্ষক, কার্য সহকারী (ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট), উচ্চমান সহকারী, সহকারী প্রকৌশলী লায়লা মিথুন এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবু কামাল সকলেই এ কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী জি, এম, মুজিবর রহমান অল্প কিছুদিন পূর্বে এখানে যোগদান করেছেন। কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দরপত্রের শর্তানুযায়ী সম্পন্ন করার পরও ঐ দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের ধার্যকৃত কমিশন (পিসি) দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া এসও মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়া প্রতিটি কার্যাদেশ প্রদানের সময় মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করেন। দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে এসও মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়া শুরু করেন নানা টালবাহানা। বাধ্য হয়েই দাবিকৃত উৎকোচ তাকে দিতে হয়। এছাড়া উচ্চমান সহকারী খন্দকার জাহিদুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
সূত্র জানায়, এলজিইডি বাগেরহাট জেলায় আনুমানিক ৪শ’ ঠিকাদার রয়েছেন। বাগেরহাট জেলা ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, রামপাল, মংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরনখোলা এই ৯টি উপজেলায় সকল এলজিইডি ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়নের জন্য বাগেরহাট এলজিইডি সদর দপ্তরে আসতে হয়। ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে সরকারি অর্থ জমা দেওয়ার পর উচ্চমান সহকারী খন্দকার জাহিদুল হকের কাছে আসলে তিনি প্রতিটি লাইসেন্স নবায়নে উৎকোচ দাবি করেন। সূত্র জানায়, ৪শ’ লাইসেন্স নবায়ন করতে উচ্চমান সহকারী খন্দকার জাহিদুল হক কয়েক লাখ টাকা উৎকোচ পেয়ে থাকেন। বলতে গেলে পুরো জেলায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদারগণ ঐ চক্রের কাছে জিম্মি। হয়রানির ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না। দীর্ঘদিন ধরে ঐসব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে বাগেরহাট এলজিইডি। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, সরকারি অর্থে তারা সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। বাগেরহাটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বাগেরহাট এলজিইডিতে পচন ধরেছে। প্রকৌশলী ও কর্মচারিরা সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরেও ঠিকাদারদের উপর অমানসিক চাপ প্রয়োগ করে মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ১ কোটি টাকার বিলে ঘাটে ঘাটে ধার্যকৃত পিসি দিতে বাধ্য করা হয়। এর পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রায় ৭ লাখ টাকার কমিশন প্রতিটি টেবিলে দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী সুচারুরূপে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার পরও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিদ আলম ভূঁইয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। উচ্চমান সহকারী খন্দকার জাহিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি স্বীকার করেন। লাইসেন্স নবায়নের ব্যাপারে যে উৎকোচ নেয়া হয় তাও স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, এটা খুবই সামান্য। উচ্চমান সহকারী খন্দকার জাহিদুল হক দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বাগেরহাট এলজিইডিতে কর্মরত রয়েছেন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জি, এম, মুজিবর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘কমিশন বাণিজ্য কিংবা দুর্নীতি অথবা সরকারের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়, এমন অনৈতিক কাজের সঙ্গে যেই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি বাগেরহাটে অল্প কিছুদিন হলো এসেছি। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খলিফা মো. আবুল কালাম আজাদ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ কিংবা কমিশন বাণিজ্যের ব্যাপারে আমি জিরো টলারেন্স।