মেহেরপুর সংবাদদাতা: মেহেরপুরে দেশীয় পদ্ধতিতে ফিজিয়ান, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত হচ্ছে ২৯ হাজার ৩৪৪ টি খামারে। পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও পালন হচ্ছে দেশি জাতের গরু।
মেহেরপুরের খামারে কোরবানির ঈদের জন্য ৩৭ হাজার গরু প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে গরু না আসায় লাভের আশা করছেন খামারিরা। কোনভাবেই যাতে সীমান্ত দিয়ে গরু না আসে সেদিকে তৎপর তারা।
ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে খামারিরা এখন গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত। নিজের গরুগুলোকে আকর্ষনীয়, সুস্থ্য ও মোটাতাজাকরণে দিনরাত পরিচর্যা করছেন। দেশীয় খাবার বিচালি, চালের কুড়া, খৈল, কাঁচা ঘাস খাওয়াচ্ছেন।
সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের খামারি মিলন আলী বলেন, ‘আমার খামারে বিভিন্ন জাতের ৩২টি গরু আছে যার সব কটি দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে। এবার ইদে ১৮টি গরু বিক্রি করবো। আশা করি দাম ভাল পাবো। লাভ হলে খামারটি আরো বড় করবো।’
আরেকজন খামারি এনামুল হক বলেন, ‘আমার খামারে কয়েকজন শ্রমিক সারা বছর কাজ করে। এবার ৬ টি বড় জাতের গরু ৩০ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবো। তবে ভারত থেকে গরু আসলে ক্ষতির মুখে পড়বে খামারিরা।’
এদিকে ঈদকে ঘিরে ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমাচ্ছেন খামারে খামারে। ব্যবসায়ী জহির উ্দ্দিন বলেন, ‘আমরা খামারে খামারে গিয়ে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাটে নিয়ে বিক্রি করবো। এসব গরু রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় যাবে।’
এবার গরুর দাম একটু বেশি হলেও লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা।
মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলায় এবার ৩৭ হাজার গরু পালিত হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কোরবানির চাহিদা মেটাবার মতো পর্যাপ্ত গরু মজুদ আছে দেশে। খামারিদের সুবিধার্থে সীমান্ত দিয়ে গরুর প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করছেন তারা।’

