বরিশাল প্রতিনিধি : নগরীর কাশিপুরে পিকআপচালক মো. উজ্জলের (২১) খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে জানান পুলিশ কমিশনার মো. শাহাব উদ্দীন খান। উজ্জলকে খুন করে নির্মাণাধীন ভবনে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় বলে তিনি জানান।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- ওই ভবনের সাব-কন্ট্রাক্টর সোহাগ, ট্রাকের দুই হেলপার রমজান ও রবিউল। সোহাগ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ফুলঝুড়ি এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে ও রমজান বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কাজীরহাট এলাকার আনোয়রের ছেলে এবং রবিউল নির্মাণ শ্রমিক। তিনি মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার ইদ্রিস ফকিরের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলননে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা আগে বরিশালের কাশিপুরে নির্মাণাধীন ট্রাক টার্মিনালে খুন হওয়া পিকআপচালক উজ্জলের লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে ভবনের সাব-কন্ট্রাক্টর মো. সোহাগের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আলাকান্দা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়। এরপর ধান গবেষণা রোড এলাকা থেকে নিহত উজ্জলের ভাড়ায় চালিত পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা অপর দুই আসামি রবিউল ও রমজানকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা উজ্জলের সঙ্গে চলাফেরা করতো। তারা নির্মাণাধীন ট্রাকস্ট্যান্ডের সাইড থেকে বিভিন্ন সময় রড, সিমেন্ট, খোয়াসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে উজ্জলের পিকআপে করে বাইরে বিক্রি করতো।
সর্বশেষ সোহাগের কাছে ট্রাক ভাড়া বাবদ ৩’শ টাকা পেতো উজ্জল। যা না দেয়ায় উজ্জল তাদের চুরির বিষয়টি মূল ঠিকাদার স্বপনকে জানিয়ে দেয়। এরপর ঠিকাদার স্বপন সাব-কন্ট্রাক্টর সোহাগকে তার পাওনা ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আটকে দেয়। সেখান থেকেই মূলত সোহাগ পিকআপচালক উজ্জলের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং হত্যার পরিকল্পনা করে। সর্বশেষ পয়লা আগস্ট সোহাগ ও রবিউলের ফোন পেয়ে উজ্জল ভান্ডারিয়া থেকে ফিরে ট্রাক টার্মিনালের ভেতরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে যায়। সেখানেই আসামিরা সোহাগের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উজ্জলকে গলাকেটে হত্যা করে। নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ কাথা দিয়ে পেচিয়ে ভবনের পাশের কাশবনে গর্ত করে বালিচাপা দেয় আসামিরা।
উল্লেখ্য, গত পয়লা আগস্ট রাতে থেকে নিঁখোজ হন পিকআপ চালক উজ্জল। স্বজনরা খুঁজতে যেয়ে দুই আগস্ট সন্ধ্যায় নগরের কাশিপুরস্থ নবনির্মাণাধীন ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার কাঁশবনের ভেতরে উজ্জলের একপাটি জুতা দেখতে পেয়ে মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আলগা বালুর স্তুপ দেখে তা খুঁড়ে উজ্জলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

