ঢাকাMonday , 15 July 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুড়িগ্রামে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

Link Copied!

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৪ শতাধিক চর ও নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
লোকজন আশ্রয় নিতে শুরু করেছে পার্শ্ববর্তী উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যা কবলিত এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
কুড়িগ্রাম সংলগ্ন ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭৫ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম।
নদ-নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের পানিবন্দি অনেক পরিবার নৌকার অভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু জায়গায় যেতে পারছেন না। তবে এরা গবাদি পশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর এলাকার মিজানুর রহমান জানান, এই চরে যাদের নৌকা আছে তারা জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে উঁচু স্থানে চলে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের নৌকায় উঁচু জায়গার চলে যাচ্ছে। কিন্তু যাদের নৌকা নেই তারা খুবই বিপদে।
পাঁচগাছী ইউনিয়নের মহির উদ্দিন বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে পেতে ঘরের ভিতর এক কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে। ঘরের চৌকি ইট দিয়ে ভাসিয়ে কোন রকমে কষ্ট করে ছিলাম। ভেবেছিলাম পানি কমা শুরু হলে আর অন্যত্র যেতে হবে না। কিন্তু পানি কমার পরিবর্তে শুধু বাড়তেছে। বাড়িতে আর থাকার উপায় নাই। এজন্য সড়কে এসে বাড়ির কয়েকটি টিন দিয়ে ছাপড়া ঘর তুলতেছি। এখানেই বউ বাচ্চা নিয়ে থাকতে হবে। রান্না করার উপায় নাই। শনিবার থেকে শুধু কাঁঠাল খেয়ে আছি। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগীতা পাই নাই।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দই খাওয়ার চরের কালু মিয়া বলেন, ‘এই চরে আমরা শতাধিক পরিবার বসবাস করছি। সব পরিবারের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। যাদের নৌকা আছে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে যাচ্ছে আর যাদের নৌকা নেই তার মাচা উঁচু করে গরু ছাগল নিয়ে কষ্টে দিন পার করতেছে। পানি আরো বাড়তে থাকলে এই চরের সব মানুষকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।’
এই উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। এখানে চরাঞ্চলসহ প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি। কিছু পরিবার উঁচু সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারিভাবে এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।’
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা রোববার বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে। এছাড়াও নতুন করে ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছে।