ঢাকাSaturday , 6 July 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোরে পান উৎপাদনে রেকর্ড

Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি : শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, যশোরের পানচাষিরা বছরে শত কোটি টাকার পান উৎপাদন করছেন। এখানের মিষ্টি ও সাচি পানের কদর দেশের সর্বত্র।
যশোরে গত বছর পানের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে। যা থেকে পান উৎপাদন হয়েছিল ৫ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে, ২শ’ টাকা করে পানের পণ বিক্রি হলে ৫ হাজার মেট্রিক টন পান থেকে চাষিরা শতকোটি টাকার পান উৎপাদন করছেন।
চলতি মৌসুমে যশোরে ১ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা বলছেন, এখন ভরা বর্ষা মৌসুম। এ সময় পান চাষের জন্য উপযোগী সময়। কিন্তু তীব্র খরার কারণে পানক্ষেত নষ্ট হবার আশংকা রয়েছে। এতে লোকসান হতে পারে তাদের।
বরজ মালিক ও চাষিদের অভিমত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ জেলায় পান চাষ আরো সম্প্রসারিত হতো।
পান প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে সমাদৃত। চাষিরা জানান, যেখানে পানি জমে না এবং মাটি কালো দো-আঁশ সেখানে পান ভালো জন্মায়।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে যশোরের ৮ উপজেলার ১ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হচ্ছে অভয়নগর উপজেলায়। এোনে ৪১০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে।
এছাড়া কেশবপুর উপজেলায় ২৭১ হেক্টর, মণিরামপুর উপজেলায় ১৫০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৭৫ হেক্টর, চৌগাছায় ৯৩ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ২৯ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ১২ হেক্টর ও শার্শা উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে।
এসব এলাকায় মূলত মিষ্টি, সাচি ও জাল পানের আবাদ হয়। ভালো লাভ পাওয়ায় পুরনো চাষিদের পাশাপাশি নতুনরাও বরজ করছেন।
অভয়নগর উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নকে বলা যায় পানের ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের মধ্যপুর, বাগুটিয়া, পায়রা, শুভরাঢ়া, শ্রীধরপুর, সিদ্দিপাশা, প্রেমবাগ, চলিশিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে গেলে দেখা যায় চারদিকেই পান আর পান।
মধ্যপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, আষাঢ় মাসে মূলত পানের পল বা লতা রোপণ করা হয়। লতা রোপণের ছয়-সাত মাস পর পান পাতা সংগ্রহ শুরু হয়। ঠিকমতো পরিচর্যা করলে একটি বরজ থেকে ভালো পান পাওয়া যায়।
তিনি জানান, লাভ বেশি হওয়ায় পান চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তাদের গ্রামের প্রায় দু’শ পরিবার সরাসরি পান চাষে জড়িত। আশপাশের গ্রামেও চলছে পানের চাষ।
একই গ্রামের পান চাষি নজরুল ইসলাম জানান, পান একবার চাষ করলে ১০ থেকে ১৫ বছর ফসল পাওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে দু’ থেকে তিনবার করে ১২ মাস সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়। যা খরচের তুলনায় অনেক লাভজনক। তবে প্রতিনিয়ত পরিচর্যায় রাখতে হয় পানের বরজ।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমে আমরা ভালোমানের পানের পণ (৮০টি) বিক্রি করেছিলাম ২শ’ টাকায়। তবে ঢাকায় নিতে পারলে পানের আরো ভালো দাম পাওয়া যায়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক এমদাদ হোসেন জানান, একজন কৃষক এক থেকে দেড় বিঘা জমিতে পান চাষ করলে সেখান থেকে তার পরিবারের বাৎসরিক সব ব্যয় মিটিয়েও ৫ লাখ টাকা লাভ থাকে। এখন চাষিরা বরজ করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানের জন্য আর্শিবাদ বয়ে আনবে।
এদিকে পান চাষে কৃষি ঋণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের যশোর অঞ্চলের উপ মহাব্যবস্থাপক মিলন কুমার নন্দী। তিনি বলেন, ‘যশোরে কৃষি ব্যাংকের ২২টি শাখা থেকেই পান চাষের জন্য ঋণ প্রদান করা হয়। যারা প্রকৃত পান চাষি ও যাদের জমি আছে তারা যদি নিয়ম মেনে আবেদন করেন তাহলে ঋণ পাবেন। আমরা তাদের ঋণ দিতে প্রস্তুত আছি।’