ঢাকাSaturday , 29 June 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে ৩ গুণ

Link Copied!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন বে-টার্মিনাল। এর ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে ৩ গুণ।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপকূল ঘেঁষে দ্রুত গতিতে চলছে এই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ নতুন এই বে-টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সমুদ্র উপকূলে ৮৭১ একর ও সমুদ্র এলাকায় ১ হাজার ৬০০ একর এলাকাসহ সর্বমোট ২ হাজার ৫০০ একর এলাকাজুড়ে নির্মিত হচ্ছে এই বে-টার্মিনাল। এই টার্মিনালটি হবে চট্টগ্রাম বন্দর অবকাঠামোর চেয়ে কমপক্ষে ৫ গুণ বড়। চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ মিটার গভীর ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করতে পারে না। নতুন বে-টার্মিনাল নির্মিত হলে বন্দরে কমপক্ষে ১২ মিটার গভীর ও ২৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নতুন বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কেটে যাওয়ায় এখন অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ চলছে। এই বে-টার্মিনালটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা কমপক্ষে ৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ সামাল দিচ্ছে। এক সময় বড় বড় কন্টেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার নিয়ে আসলে বহির্নোঙরে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন কনটেইনারবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে আসার এক থেকে দুদিনের মধ্যে জেটিতে ভিড়ছে এবং কন্টেইনার খালাস করছে। কখনো কখনো জাহাজ বহির্নোঙরে কোনো অপেক্ষা না করেই সরাসরি জেটিতে ভেড়িছে। ২০২২ সাল নাগাদ নতুন বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে কমপক্ষে ১২ মিটার ড্রাফটের বড় বড় জাহাজও জোয়ারের অপেক্ষা ছাড়াই বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারবে।’
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ২০২২ সাল নাগাদ বে-টার্মিনাল এবং ২০২৫ সাল নাগাদ উক্ত টার্মিনালে ১৫০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস শেড, ১২২৫ ও ৮০০ মিটারের ২টি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দিনে দিনে নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রাংশ বন্দরে যুক্ত হচ্ছে।
তিনি জানান, বন্দরের ৩৭ একর জায়গায় ওপর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড যুক্ত হতে যাচ্ছে। এখন বন্দরের ইয়ার্ডে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার রাখা সম্ভব হচ্ছে। ২০১৮ সালে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৬০টির অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে বন্দরে প্রথমবারের মতো ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করা হয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত বড় জাহাজ থেকে পণ্য লাইটার জাহাজের মাধ্যমে খালাস করতে কর্ণফুলী নদীর তীরে সদরঘাটে নির্মাণ করা হয়েছে ৫টি লাইটারেজ জেটি। এর ফলে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল অনেক কমে এসেছে। এখন পণ্য খালাস করতে আসা বা রপ্তানি পণ্য নিতে আসা জাহাজকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয় না।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে যেখানে কনটেইনার ওঠানামা হয়েছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টিইউএস। সেখানে ২০১৮ সালে হয়েছে ২৯ লাখ ৩ হাজার টিইইউস। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।’