নিউজ ডেস্ক : ইডেন গার্ডেনের ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা ইয়ান বিশপ মাইক্রোফোনে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলছেন, ‘কার্লোস ব্রাফেট, রিমেম্বার দ্য নেম!’
কার্লোস ব্রাফেটকে কি ভুলে যাওয়া সম্ভব? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট অন্তত কখনোই ভুলবে না! তিন বছর আগে আজকের এই দিনে ব্রাফেটের কল্যাণেই বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৩ এপ্রিল, ২০১৬। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মারলন স্যামুয়েলসের দারুণ এক ইনিংস ম্যাচে রাখে ক্যারিবীয়দের।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে মেলাতে হতো ১৯ রানের কঠিন সমীকরণ। আগের ওভারের শেষ বলটা ‘ডট’ দিয়েছেন বলে ৮৫ রানে অপরাজিত স্যামুয়েলসকে থাকতে হচ্ছে নন স্ট্রাইক প্রান্তে। স্ট্রাইকে আট নম্বরে নামা ব্রাফেট। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হলেও এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত চার ইনিংসে যার সর্বোচ্চ রান ১০। বোলিংয়ে ইংলিশ পেস অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।
স্টোকসের প্রথম বল। লেগ স্টাম্পের বাইরে হাফ ভলি বলটাকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে ফেললেন ব্রাফেট। দ্বিতীয় বলটা ইয়র্কার করতে চেয়েছিলেন স্টোকস। এবার লং অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা। ৪ বলে চাই ৭ রান। পরের বলে আবার ছক্কা, এবার লং অফের ওপর দিয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিরোপা জয়ের মাঝে ব্যবধান তখন মাত্র ১ রানের, বল বাকি তিনটি। কিন্তু তিন ছক্কা মেরেও ব্রাফেটের ক্ষুধা মেটেনি। পরের বলটা ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে পাঠালেন গ্যালারিতে। ৪ উইকেটের জয়ে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের আগে ইংল্যান্ডকে ১৫৫ রানে থামাতে বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েও অবদান রাখেন ব্রাফেট। ৬৬ বলে ৮৫ রানের দারুণ ইনিংসটার জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে অবশ্য স্যামুয়েলসের হাতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বজয়ের আজ তিন বছর পূর্তি হলো।

