ঢাকাWednesday , 27 February 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিচারের জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বই মেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে প্রিয় ক্যাম্পাসেই আক্রান্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ। তিনি ছিলেন প্রথাবিরোধী লেখক, গবেষক, দার্শনিক। হামলার পর সারাদেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। ঘাতকদের বিচারের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচীও পালন করে প্রগতিশীল ছাত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো।
মারাত্মক আহত হওয়ার পর ২২ দিন ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট (জার্মান সময়) তিনি জার্মানির মিউনিখে মারা যান।
হামলার পরদিন তার ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তীতে হুমায়ুন আজাদ মারা যাওয়ায় তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। কিন্তু ১৫ বছরেও হুমায়ুন আজাদের স্বজনরা ঘাতকদের কি শাস্তি হল তা জানতে পারেননি। কারণ মামলাটি এখনো আদালতে ঝুলে আছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অচিরেই শেষ হবে মামলার কার্যক্রম।
হুমায়ুন আজাদের ছোট ভাই ও মামলার বাদী মো. মঞ্জুর কবির বলেন, দেখতে দেখতে ঘটনার ১৫ বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিচার পাইনি। বিচারের জন্য আরও কত দিন অপেক্ষা করতে হবে? দীর্ঘদিনে সব বেদনা সহ্য হয়ে গেছে। এখন আর কিছুই বলার নেই। তবে সরকারের কাছে একটাই দাবি, হুমায়ুন আজাদের স্মৃতিগুলো যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামে চীরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তার কবরসহ অন্যান্য স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু বলেন, দুটি মামলাই বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ন্যায় বিচার পাওয়া সকলের অধিকার। মামলাগুলোতে দীর্ঘদিনেও বিচার শেষ হয়নি। অনেক সময় আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে উপস্থাপনই করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতিতে এভাবে দীর্ঘসূত্রিতা হয়েছে। আর হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তাই তার আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
হুয়ায়ুন আজাদের ওপর হামলায় ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিআইডির পুলিশ কাজী আবদুল মালেক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি চার্জশিট দাখিল করেন।
২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। এ মামলায় মোট ৪১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানির জন্য আছে।
অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় মাত্র ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
হত্যা মামলাটিতে ২০১৭ সালে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৪১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে একজন জার্মান চিকিৎসক সাক্ষীকে আনা নিয়ে মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। পরে তার সাক্ষ্য ছাড়াই ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ করেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকসুদা পারভীন।
এরপর কয়েকটি ধার্য তারিখ গেলেও মিজানুর রহমান নামে এক আসামির জার্মান চিকিৎসককে আদালতে উপস্থাপনের জন্য একটি আবেদনের কারণে আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি আদালত। তাই হত্যা মামলায় ২১ মার্চ আত্মপক্ষ শুনানি এবং বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে।
এ সম্পর্কে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহফুজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ড. হুমায়ুন আজাদ মারা যাওয়ার আগে সর্বশেষ জার্মানিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তিনি, ড. গ্যাব্রিয়েল পেট্রিখের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই চিকিৎসককে আনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সমন পাঠানো হয়। কিন্তু তাকে আনা সম্ভব হয়নি। তবে আরেক জন সাক্ষীর মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে প্রদর্শন করা হয়েছে।
মামলাটিতে ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, নূর মোহাম্মদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার ওরফে ভাগ্নে শহিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিএমএম আদালত শায়খ রহমান ও আতাউর রহমান সানির ঝালকাঠির বিচারক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিয়ে অপর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। এরপর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে বাদী মামলাটির বর্ধিত তদন্তের আবেদন করেন।
২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডি পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার পরিবর্তে হত্যার অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরা হলেন- জেএমবির সূরা সদস্য আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রিজনভ্যান থেকে তিন আসামী ছিনিয়ে নেয় জঙ্গীরা। ওই তিন জনের মধ্যে সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন এবং রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ এ মামলার আসামি। এদের মধ্যে রাকিব ওইদিন রাতে ধরা পরে এবং পরে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়।