নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় সোমবার সারা দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
দেশের সব সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শোক পালন করা হচ্ছে।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়েও সোমবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বরণে এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা-সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে আজ রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করার কথা বলা হয়।
আজ সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই কালো ব্যাজ পরে অফিস করছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ভবনের (১ নম্বর ভবন) ওপর উড়ছে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা।
বুকে কালো ব্যাজ পরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মো. আকরাম আলী সচিবালয়ে ৪ নম্বর ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, চকবাজারে আগুনে পুড়ে এতগুলো মানুষ মারা গেল। সরকার শোক ঘোষণা করেছে। অফিস থেকে কালো ব্যাজ দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটা পরেছি।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর ঘুরে দেখা গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বুকে কালো ব্যাজ রয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক। এখনো বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি গভীর শোক জানিয়ে রোববার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রোববার দিনের কার্যক্রমের শুরুতেই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে বলেন, চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ঘটনায় যারা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এরপর শোক প্রস্তাবটি সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

