ঢাকাSaturday , 2 June 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাজেটে কর্মসংস্থানই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগামী বাজেটে কর্মসংস্থানই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) প্রকাশিত প্রাক-বাজেট জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত এপ্রিল মাসে দেশের ৬৪ জেলায় ৩ হাজার ৮৪৬ জন উত্তরদাতার অংশগ্রহণে এ গবেষণা হয়।
এতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আগামী বাজেটে কর্মসংস্থানসহ পাঁচটি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেন। কর্মসংস্থান ছাড়া জরিপে আরো যে চারটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলো হচ্ছে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, রাস্তাঘাট তৈরি ও মেরামত, কৃষি কাজে ভর্তুকি।
বিগত অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও আগামী বাজেটে সাধারণ মানুষের অগ্রাধিকার চিহ্নিত করতে ব্র্যাক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) যৌথভাবে এ গবেষণা করে।
জরিপে উত্তরদাতারা যে বিষয়গুলোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন সেগুলো হলো- শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ভাতা ইত্যাদি প্রদান (২৫%), বই ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ (২৪%), নতুন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা স্থাপন (১৮%); স্বাস্থ্য খাতে কম খরচে চিকিৎসা ব্যবস্থা (৪২%), নতুন হাসপাতাল/ক্লিনিক তৈরি (১৯%), দুস্থদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা (১২%); কৃষি খাতে স্বল্পমূল্যে উপকরণ প্রদান (৬৩%), স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা (১৬%), ফসল বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা (৫%); সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বয়স্ক ভাতা (৩৫%), আশ্রয়হীনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা (১৭%), বিধবা ভাতা (৯%); দুর্যোগ খাতে দুর্যোগের পূর্ভাবাস ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ (৪৭%), দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা ও সাস্থ্যসেবা (১০%), বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার জন্য বাঁধ নির্মাণ (৯%) এবং অভিবাসন খাতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি অফিসের সহায়তা বাড়ানো (৩৪%), সহজ ঋণসুবিধা (২১%) এবং গ্রামপর্যায়ে সরকারি তথ্যসুবিধা বাড়ানো (২০%)।
নির্বাচনী বছরের বাজেটে রাজস্ব আয় কমে গিয়ে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বাজেটবিষয়ক এই গবেষণা প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের বাজেট ও বাজেট ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়- আগামী অর্থবছর ২০১৮-২০১৯ এর বাজেট হবে নির্বাচনী বাজেট। এই বাজেটে রাজস্বপ্রাপ্তি কম হতে পারে বলে এবং যেহেতু প্রথম ছয় মাসে সরকারের খরচ বৃদ্ধি পাবে সেহেতু অভ্যন্তরীণ ঋণ যেমন: ব্যাংক-ঋণ গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। এতে দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিগত বছরের ব্যয় পর্যালোচনা ও আগামী বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার আলোকে এই গবেষণায় তিনটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হচ্ছে-
প্রথমত, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রের বাজেট বরাদ্দ সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এসডিজি অর্থায়নের জন্য সরকারের নির্ধারিত পাঁচটি উৎস থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও সেটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার কারণে সামনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে। তাই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারি অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, অর্থায়নের স্বচ্ছতা আনয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।