নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকায় অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এদের বেশিরভাগই শুক্র ও শনিবার ভোরের দিকে ছিনতাইয়ের কাজে নামে। ছিনতাইয়ের কাজ শেষে পালাতে তারা প্রাইভেটকার ব্যবহার করে। তিন থেকে চার জনের গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা ছিনতাই করে।
সম্প্রতি রাজধানীতে ছিনতাইকারী একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসব তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন, তারা একটি ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে মঙ্গলবার সকালে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেন। এরপরই ছিনতাইকারীরা জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য জানায়।
বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্রের কর্মকাণ্ড বেড়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্বীকার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বেশ কয়েকটি অভিযান চালায়। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি মিরপুর থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন মমতা মল্লিক ও তার বান্ধবী। এ সময় অজ্ঞাত তিন ছিনতাইকারী তাদের দুই স্মার্ট ফোন ও ৪ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে যায়। বিষয়টি পিবিআই জানার পর মমতা মল্লিকের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও আইএমই আইএর মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদের নেতৃত্বে মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে আব্দুল আউয়াল হাওলাদার (২৬) ও মো. বেলাল (৪০) নামে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অটককৃতরা জিজ্ঞাবাদে জানিয়েছে, তারা ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোরের দিকে ছিনতাই করে। প্রথম টার্গেট থাকে রিকশাযাত্রীরা। রিকশায় থাকা যাত্রীর ব্যাগ, ল্যাপটপ ব্যাগ, মোবাইলসহ নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া। এছাড়া সুযোগ পেলে রিকশার গতিরোধ করে তারা যাত্রীকে চাপাতি ও ছোরা ঠেকিয়ে ভয় দেখায় এবং সর্বস্ব লুটে আগে থেকে রাখা নিজেদের প্রাইভেটকারে পালিয়ে যায়।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেপ্তার দুই ছিনতাইকারী একাধিক ছিনতাই ও হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার মিরপুর মডেল থানায় আরো একটি মামলা (৫৩) দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

