ঢাকাSaturday , 27 January 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিডিপিতে রাজস্বের অবদান ২০% চান অর্থমন্ত্রী

Link Copied!

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বাজেটে জাতীয় অভ্যন্তরীণ আয়ের (জিডিপি) অবদান তুলনামূলক খুব কম। বর্তমানে জিডিপিতে রাজস্বের হার ১০-১১ শতাংশ। যা আমরা ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ করতে চাই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাস্টমসের প্রধান কর্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত দ্রব্য যাতে প্রবেশ করতে না পারে এমন কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কাস্টমসের আয় আরো কমে যাবে। কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কাস্টমস শুল্ক নিরাপত্তার কাজটি করবে। ভ্যাট ও আয়কর রাজস্বের প্রধান খাত হবে। কাস্টমসের প্রধান কর্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত দ্রব্য যাতে প্রবেশ করতে না পারে। তখন রাজস্ব আদায় করা হবে গৌণ কাজ।
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। কিছুদিন আগেও ব্যক্তি শ্রেণিতে ১৪ লাখ করদাতা আয়কর দিতেন। বর্তমানে তা প্রায় ৩২ লাখে পৌঁছে গেছে। তবে আরো বেশি আয়কর আশা করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচাররোধে, অনাকাঙ্ক্ষিত পণ্য আমদানি রোধে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা রাখতে হবে। এক সময়ে শুল্কে নির্ভরশীলতায় রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কারণে, বাণিজ্য বাড়ানোর কারণে শুল্ক আদায় কমছে। মূসকের (মূল্য সংযোজন কর) ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এনবিআরকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে চলতে হবে। তাদের সহযোগিতায় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন বিশ্বে রোল মডেল। ড. মশিউর রহমান বলেন, অর্থপাচার, সঠিক হিসাবে আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাস্টমসকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। যেখানে প্রণোদনা প্রয়োজন সেখানে তা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কাস্টমস্ কর্মকর্তাদের আচার-আচারণ, দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পায়নের পক্ষে থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাদের ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে পদক্ষেপ নিতে হবে। উৎপাদন বন্ধ করে নয় বরং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজ মালয়েশিয়া, দুবাই ও কানাডায় দেশের অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। কানাডায় বেগমপাড়া হয়েছে। দেশের মধ্যে অভিজাত গুলশানে অর্থবিত্তরা আবাস গড়েছেন। এদের মধ্যে থেকেই বিদেশে অর্থ পাচার করছেন। দেশে এত গোয়েন্দা থাকতে মানিলন্ডারিং হয় কীভাবে?
ড. রাজ্জাক বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার হচ্ছে। গুলশান-বনানীতে অনেক বড় বড় বাড়ির মালিকরাই বিদেশে অর্থ পাচার করছে। আমরা এখনো কেন সোনা চোরাচালান বন্ধ করতে পারি না? এসব বিষয়ে কাস্টমসকে কাজ করতে হবে। এমন নীতি (পলিসি) গ্রহণ করতে হবে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যে অবদান রাখতে পারে।
তিনি আরো বলেন, নন-ট্যারিফ বেরিয়ারের কারণে প্রতিবেশী অনেক দেশ ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা করতে পারলেও বাংলাদেশ সমস্যায় পড়ছে।
গতকাল অনুষ্ঠানে ১৪ জন কাস্টমস্ কর্মকর্তাকে ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম পরিচালক আনিসুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক রেজাউল করিম, বিএসটিআই, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আনাম, বিআইসিএএ’র সভাপতি নূরুল কাউয়ুম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
এ সময় এনবিআর’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান। স্বাগত বক্তৃতা রাখেন এনবিআর সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান।